ডেঙ্গুতে চলতি বছরের বুধবার,(০১ অক্টোবর ২০২৫) পর্যন্ত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৪৭ হাজার ৮৩২ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বুধবার পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত এ মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছেন মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। এ সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।
২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৯০ জন ভর্তি, মৃত্যু ২ জন
হাসপাতালে ভর্তি ৪৭,৮৩২ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ্ ইমার্জেন্সি ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৪৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা দক্ষিণে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৩৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০ জন, ঢাকা বিভাগে ১০০ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৭৮ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৬৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৮ জন, রংপুর বিভাগে ২২ জন আক্রান্তের তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া গেছে।
বয়সভেদে আক্রান্তদের মধ্যে ৫ বছরের শিশু ২৪টি, ৬-১০ বছরের ৩০জন, ১১-১৫ বছরের ২৬ জন, ১৬-২০ বছর বয়সের ৫৬ জন, ২১-২৫ বছর বয়সের ৬৫ জন, ২৬-৩০ বছর বয়সের ৭১ জন, ৩১-৩৫ বছর বয়সের ৪৮ জন, ৮০ বছরের ৫ জন। ৭৬-৮০ বছর বয়সের ৪ জন।
হাসপাতালের তথ্যমতে, আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে ১২৩ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪৭ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ১৪ জন, সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১২ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৪৬ জন, মহাখালী ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ১১৩ জন ভর্তি আছে। রাজধানীর ১৮ হাসপাতালে ৫৭৮ জন ভর্তি আছে। সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনও ২ হাজার ৩শ’ ৫৯ জন ভর্তি আছে।
বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নেই বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ালেও এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাতেও কামড়ায়।
অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ছোট শহরে অধিক জনসংখ্যার কারণে প্রচুর পরিমাণে ছোট-বড় পাত্র তৈরি হয়। যার মধ্যে পানি জমে মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের তাপমাত্রা ও আদ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডেঙ্গু সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। আগে শুধু বর্ষাকালে ডেঙ্গু দেখা যেত। এখন গ্রীষ্মকালেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনিয়মিত ও অতি বর্ষণের ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। যা মশার জন্মের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভাইরাস খুব দ্রুত অভিযোচিত হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের ফলে এটি আরও সংক্রামক হতে পারে এবং ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা পদ্ধতিও কম কার্যকর হয়ে থাকে।
ফলে ডেঙ্গু বাংলাদেশের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে ওঠেছে। এটি প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি, গবেষণা, জনসচেতনতা এবং ব্যক্তিগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা একসঙ্গে করতে হবে।



