বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশসিলেটে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি

সিলেটে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি

আকাশ চৌধুরী, সিলেট

সম্পর্কিত সংবাদ

সিলেট অঞ্চলে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত’ আওয়ামী লীগের তৎপরতায় প্রশাসনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি গোপন বৈঠক ও সংঘবদ্ধ কার্যক্রম নজরে আসায় গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের লোকজন যাতে প্রকাশের থাকতে না পারে’- পুলিশ কমিশনারের এমন একটি আদেশের কপি ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার তিনি গণমাধ্যমকে আদেশে ‘শব্দগত ভুল’ থাকার কথা বললেও বৃহস্পতিবার, (০২ অক্টোবর ২০২৫) তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটি নিজেদের বক্তব্য নয় বলে দাবি করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ স্থানীয়ভাবে ‘পুনর্গঠন’ ও ‘সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের’ চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেখানে নিয়মিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের বাইরে গিয়ে কেউ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছি।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নিষিদ্ধ’ দলের এই তৎপরতা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নয় বরং সামাজিক সম্প্রীতিকেও বিঘ্নিত করতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘এ অপচেষ্টা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয় বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও একটি অশনিসংকেত।’ এদিকে, সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে এবং যে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে, আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশনাটি নিজেদের বক্তব্য নয় বলে দাবি করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। গত বুধবার এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের বক্তব্য নয়, পুলিশ অযথা কাউকে হয়রানি করবে না’।

সিলেট মহানগর এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজন যেন প্রকাশ্যে থাকতে না পারেন, মহানগরের ছয় থানার ওসিকে পুলিশ কমিশনারের দেয়া এমন একটি নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নির্দেশনায় প্রতিদিন দুজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক। গতকাল বুধবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের নতুন উদ্যোগ ‘জিনিয়া’ অ্যাপসের উদ্বোধন উপলক্ষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলন শেষে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই নির্দেশনা প্রসঙ্গে আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, আমি এখানে জয়েন করার পর থেকে বলছি যে, আমরা একটা মানবিক পুলিশ চাই। আমাদের সব অফিসার এবং ফোর্সকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে নিরীহ কোনো ব্যক্তিকে কোনো অবস্থায় যেন হয়রানি করা হবে না। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যে সব মামলা হয়েছে এবং যে সব মামলায় অনেক অভিযোগ আসছে যে তাদের হয়রানিমূলকভাবে এ মামলাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা যাচাই বাছাই করে তাদেরকে চার্জশিট দেয়ার আগেই বাদ দেয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।

আমাদের এ কাজটা অব্যাহত থাকবে। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, আমি আমার নীতিটা আবার পরিষ্কার করছি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ অযথা কাউকে হয়রানি করবে না। আমাদের আইনগত যে দায়িত্ব আছে আমরা মানবাধিকার সমুন্নত রেখে এ কাজগুলো করে যাব। আমাদের কাজ হচ্ছে জনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। এ শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে কোনো ধরনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ- এটা নীতিসিদ্ধ নয়। আমরা মানবাধিকারের বিষয়টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের কার্যক্রমগুলো পরিচালনার জন্য সব অফিসার এবং ফোর্সকে নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি বলেন, যেই কথাটা আসছে এবং বিভিন্ন মিডিয়াতে যেভাবে আসছে এগুলো আসলে কীভাবে আসছে আমি জানি না। এগুলো আসলে আমাদের বক্তব্য নয় এবং এই ধরনের কে নো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এই নির্দেশনায় কিছু শব্দগত ভুল থাকতে পারে। এটি সংশোধন করে আবার আমরা প্রেরণ করবো। তবে গতকাল নতুন করে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

জিনিয়া অ্যাপের উদ্বোধন

গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, জিনিয়া অ্যাপ আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে চালু হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি মোগলবাজার থানায় চালু হবে। এরপর পুরো নগরে বিস্তৃৃত হবে এ অ্যাপের কার্যক্রম। পুলিশ কমিশনার জানান, এই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে নগরের যে কোনো বাসিন্দা যে কোনো পুলিশ সহায়তা চাইতে পারবেন। নগরে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ কোনো কাজ করতে চাইলে সব সময়ই একটি পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ চ্যালেঞ্জ নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়। ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে অভিযানও চলমান আছে। এটি অবাহত থাকবে।

সম্প্রতি

আরও খবর