সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশঅক্টোবরের মধ্যে বাঙ্গরা উপজেলা ঘোষণা না হলে গ্যাস উত্তোলনে বাধা ও মহাসড়ক...

অক্টোবরের মধ্যে বাঙ্গরা উপজেলা ঘোষণা না হলে গ্যাস উত্তোলনে বাধা ও মহাসড়ক অবরোধের হুমকি

প্রতিনিধি, মুরাদনগর (কুমিল্লা)

সম্পর্কিত সংবাদ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় জনগণ এবং আন্দোলনকারী নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যে এই দাবি মেনে গেজেট প্রকাশ করা না হলে তারা তীব্র ও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এই কঠোর আন্দোলনের অংশ হিসেবে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকার কিছু কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জনসমাবেশে স্পষ্ট করে বলেছেন, জনগণের এই ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে শুধু রাজপথ নয়, জাতীয় সম্পদের ওপরও প্রভাব পড়বে।

বাঙ্গরা উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকার তার বক্তব্যে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন যে, বাঙ্গরা উপজেলা বাস্তবায়ন না হলে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শ্রীকাইল, বাঙ্গরা ও মকলিশপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হবে। দাবি আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা-সিলেট ও কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চলকে অচল করে দেয়া হবে। বাঙ্গরা বাজার থানাধীন অঞ্চলের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮০ জন (জনশুমারি ২০২২ অনুযায়ী) মানুষের বসবাস। এরমধ্যে মোট ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৩২৭ জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে এই বিশাল জনপদের মানুষ প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্য সরকারি সেবা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।

বাঙ্গরা উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির নেতারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রি-নিকার বৈঠকে বাঙ্গরা উপজেলা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন জনসভা ও জনসমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না হয়, তবে শুধু মহাসড়ক অবরোধ নয়, বরং বৃহত্তর গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে এই দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

আন্দোলনকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে দ্রুত জনগণের এই যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, একটি নতুন উপজেলা গঠনের মাধ্যমেই এই বিশাল অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিশ্চিত হবে।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি, তবে আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকারের প্রতি এমন কঠোর হুঁশিয়ারির পর এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি

আরও খবর