কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকা থেকে অপহৃত ৯ বছরের শিশু শাহরিয়ার জান্নাত মিমকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে চকরিয়া থানায় আনা হয়।
নিজ বাসা থেকে অপহরণের একদিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। চকরিয়া থানার এসআই জাকির হোসেন ও এএসআই জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প থেকে তাকে উদ্ধার করে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার গৃহ শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অপহরণের শিকার হন ওই ছাত্রী। চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চকরিয়া থানার এসআই জাকির হোসেন বলেন, ওই ছাত্রীকে অপহরণকারী একজন রোহিঙ্গা যুবক। অন্য এক রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করে সে দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া পৌরশহরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেই বাসায় মিমকে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। ওই রোহিঙ্গা যুবক বাংলাদেশের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে শিক্ষক পরিচয়ে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।
ভিকটিমের বাবা বলেন, সবুজবাগ এলাকায় আমার বাসার পাশে এক দম্পতি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। গৃহকর্তা (গৃহ শিক্ষক) মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান তার বাসায় প্রাইভেট পড়ানো শুরু করলে আমার মেয়েকেও সেখানে পড়তে দিই।
তারা যে রোহিঙ্গা, সেটি আমরা জানতাম না। হঠাৎ গত মঙ্গলবার বিকেলে মেয়ে পড়তে গিয়ে আরে ফেরেনি। শিক্ষকের বাসাও তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে ওই শিক্ষককে ফোন দিলেও ধরেননি।
তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় পরদিন বুধবার সকালে আমার মোবাইলে ফোন করে বলেন, আপনার মেয়েকে ফেরত চাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। তখন সে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে একটি বিকাশ নম্বর দেন।’ এরপর আমি বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসিকে জানাই।
চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে ছাত্রীর বাবাকে দেয়া বিকাশ নম্বরে কৌশলে কিছু টাকা দেয়া হয়। এরপর ওই বিকাশ মোবাইল ফোন নম্বরের ঠিকানা তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা নিয়ে শনাক্ত করে অপহরণকারীর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
এরপর চকরিয়া থানার এসআই জাকির হোসেন ও এএসআই জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ টিম উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযান চালিয়ে গত বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে মিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় অপহরণকারী।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, অপহরণকারীদের ধরতে পুনরায় পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে চকরিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।



