বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা এখন চলতি মৌসুমের রোপা আমন ধানের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। আদমদীঘির বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন শুধু আমন ধান। পুরো মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোন খেতে চলছে আগাছা পরিস্কার, কোন ক্ষেতে চলছে সেচ ও সার এবং কীটনাশক স্প্রে’র কাজ। কিন্তু পূর্ব আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখলে কৃষকের শংকা বাড়ছে। এরমধ্যে দেশের কোন কোন অঞ্চলে শিলা বৃষ্টি হওয়াতে উপজেলার কৃষকরা কিছুটা চিন্তিত। এরপর আছে নায্য দাম পাবার চিন্তা।
সম্প্রতি সরজমিনে আদমদীঘি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মাঠজুড়ে রোপা আমন ধানের সমারোহ। চারিদিকে সবুজে সবুজে আচ্ছাদিত আছে মাঠ। কোন কোন এলাকায় আগাম ধানের শীষে উকি দিচ্ছে। কৃষকরা জানান, আবাদ ভাল হয়েছে। এখন চিন্তা, ঘরে ধান ভাল ভাবে তোলার। কৃষকরা আরো জানান, এই আবাদে তারা সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে। এই ধানের মাঠই তাঁদের প্রাণ।
রোপা আমন মৌসুমে একমন ধান উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৮০০ টাকার মতো। গত বছর বোরো ধানের দর পাওয়া গিয়েছিল এর কাছাকাছিই। এতে তেমন লাভ হয়নি, আবার লোকসান গুনতেও হয়নি। তবে কৃষকের পুরো পরিবারের খাটুনি গেছে বৃথা। এ হিসাব দিয়ে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের কৃষক হেলাল রহমান বলেন, এখন বাজারে যে ধানের দাম আছে, সেটা থাকলেই ভালো। এতে মন প্রতি দুই থেকে তিন’শ টাকা লাভ টাকা লাভ করা যাবে।
আদমদীঘির মাঠে এবার আমন আবাদ ভাল হয়েছে। রোপন করা চারা এখন মাঝবয়সী অবস্থায় আছে। যা থেকে ধান পেতে কোন কোন এলাকায় দেড় মাস সময় লাগতে পারে। কৃষক ভালো আবাদের আশায় সর্বস্ব বিনিয়োগ করেছে আমন আবাদে। বগুড়ার শুধু আদমদীঘি নয়, গত কয়েক দিনে উপজেলার নশরৎপুর, ছাতিয়ানগ্রাম, চাঁপাপুর, সান্তাহার ইউনিয়ন ঘুরে মাঠে মাঠে আমন ধান দেখা গেছে। সব স্থানেই আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষি উপকরনের কোনো ঘাটতি নেই এবার। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও চাষিদের এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে।
উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, প্রায় ৮ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান চাষে ১০০ কেজি সার বাবদ আড়াই হাজার টাকা, আড়াই কেজি বীজ বাবদ ১ হাজার ৩০০ টাকা, কীটনাশক বাবদ ১ হাজার টাকা লাগে। এতে মোট খরচ দাড়ায় ৮ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া ধান কাটা ও মাড়াই বাবদ ৫ ভাগের ১ ভাগ শ্রমিককে অথবা ২/৩ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ দিতে হয়। এরপর ধান পাওয়া যায় ১৬ মনের কাছাকাছি।
আদমদীঘি কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলায় ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারে কৃষকরা স্বর্ণা-৫, পারিজা, ব্রিধান, হাইব্রিড-৫, বিনা-১৭, বিআর-৯০ ও সুগান্ধসহ প্রভৃতি জাতের ধান চাষ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এবারে আবাদ ভাল হয়েছে। তবে ভয়টা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রায়েছে। কৃষি উপকরণে কোন সংকট সৃষ্টি হয়নি। আমরা কৃষক ভাইদের এবারের শষ্য বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।



