নাটোরের লালপুরে গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়োগ বাতিল চেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাজারে শতশত মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঘেরাও করে রাখে।
জানা গেছে, লালপুরের ৬টি ইউনিয়নে ৬ জন গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। প্রার্থী বাছাই করতে নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি ও আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা সদস্য সচিব ছিলেন। এ ছাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা সদস্য ছিলেন। আড়বাব, দুয়ারিয়া, দুড়দুড়িয়া, অর্জুনপুর ও কদিমচিলানের ৫টি পদের বিপরীতে ২৯টি আবেদন জমা পড়ে। ওয়ালিয়া ইউনিয়নের জন্য কোনো আবেদন জমা পড়েনি। পরে এ ইউনিয়নে ১টি পদের বিপরীতে পুনঃনিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ২ জন আবেদন করেন। ৬ ইউনিয়নের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ৪টি বাতিল ঘোষণা করে নিয়োগ কমিটি। ২৭ জন ১১ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা দেন। এতে ১৭ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। ১৩ অক্টোবর মৌখিক পরীক্ষা শেষে ৬ প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগ দেয় নিয়োগ কমিটি। ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়োগ পেয়েছেন বাসন্তী রানী দাস। গত বৃহস্পতিবার ছিল তার যোগদান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অবৈধ। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাউকে না জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
নিয়োগ কমিটির সদস্য ও ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, নিয়োগের সব কার্যক্রম করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি যাকে নিয়োগ দিয়েছেন, তাকে যোগদানে সহায়তা করা সরকারি দায়িত্ব। এখানে আমার কিছু করার নেই।
নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, বিধি মেনে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে পারে।



