বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশলৌহজংয়ে লোকালয়ে কুমির আতঙ্ক

লৌহজংয়ে লোকালয়ে কুমির আতঙ্ক

প্রতিনিধি, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

সম্পর্কিত সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামে পদ্মা তীরসংলগ্ন লোকালয়ে টানা কয়েক দিন ধরে কুমিরের দেখা মিলছে। পুকুরপাড় ও নদীর ঘাটে কুমির ওঠানামার ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। কৌতূহলী জনতার ভিড়ও বাড়ছে এলাকাজুড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, প্রথম কুমিরটি দেখা যায় গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে। পথচারী মো. রানা পুকুরপাড়ের গোয়ালঘরের পাশে কুমির দেখতে পেলে চিৎকার করেন এবং চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। টর্চলাইটের আলো পড়তেই কুমিরটি পুকুরে নেমে যায়।

পরের দিন শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আবারও কুমির উঠলে স্থানীয় একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গতকাল সোমবার সকালে একই ইউনিয়নের পদ্মা নদীর ঘাটে আরেকটি কুমির দেখা গেছে এবং ভিডিও করে রেখেছেন বলে জানান ইনকিলাব পত্রিকার লৌহজং উপজেলা প্রতিনিধি মো. শওকত হোসেন। টানা কয়েকবার কুমির দেখা যাওয়ার পর থেকে রাতে কেউ ঘর থেকে বের হতে সাহস করছেন না বলে জানান স্থানীয় নারী সেলিনা বেগম। তিনি বলেন, পুকুরপাড়ে বড়সড় কুমির উঠলে আমরা আতঙ্কে ছিলাম। নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি করছি।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ পুকুরে নৌকা ও পদ্মা নদীতে ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযান চালায়। তবে উদ্ধারদল কুমিরের সন্ধান পায়নি। এদিকে নিরাপত্তায় পুকুরপাড়ে গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আস সাদিক বলেন, ড্রোনে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী ও পুকুরে খোঁজা হয়েছে। কুমির পাওয়া যায়নি। হতে পারে রাতে আবার দেখা মিলতে পারে। তাই ৪৮ ঘণ্টা পানিতে নামা, গোসল ও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে আমরা মাইকিং করেছি। তিনি আরও বলেন, “মিঠাপানির কুমির সাধারণত মাছ খায়, মানুষকে আক্রমণ করে না—তবে কেউ কাছে গেলে কামড় দিতে পারে। নোনাপানির কুমিরের মতো মারাত্মক আক্রমণাত্মক নয় এরা।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নেছার উদ্দিন বলেন, বন্যপ্রাণী বিভাগকে জানানো হয়েছে। কুমিরকে আঘাত বা বিরক্ত না করার অনুরোধ করছি, বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে নদীপথে কুমির লোকালয়ে ঢুকে পড়া নতুন নয়। তবে বসতবাড়ির এত কাছে অবস্থান করায় জননিরাপত্তা ও কুমির সংরক্ষণের স্বার্থে সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি।

সম্প্রতি

আরও খবর