রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশডালিয়া পাউবোর নাকের ডগায় অবৈধ পাথর উত্তোলন

ডালিয়া পাউবোর নাকের ডগায় অবৈধ পাথর উত্তোলন

প্রতিনিধি, ডিমলা (নীলফামারী)

সম্পর্কিত সংবাদ

নীলফামারীর ডিমলায় ডালিয়া পাউবো কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় আবারে মহাধুমধামপ চলছে তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন। এর দায়ভার নিতে অনিহা প্রকাশ পাউবো কর্মকর্তার। কোন বাধাই মানছেনা এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারীরা। প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতার বলে বেপরোয়া হয়ে পড়েছে তিস্তা নদীর তলদেশ হতে পাথর উত্তোলনকারী সেন্ডিকেট চত্রুগুলো। প্রশাসনের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে পাথর উত্তোলনের মহাউৎসবে মেতে উঠেছে।

ইতিপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালালেও তাতে তেমন একটা প্রভাব পড়ছেনা তাদের উপর। মাঝে মাঝে দুএকদিন পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখার পর আবারো তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে সিন্ডিকেটগুলো বহাল তবিয়তে আট ঘাট বেধে মহাউৎসবে মেতে উঠে নেমে পড়ছে অবৈধ পাথর উত্তোলনে। বলা চলে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছে সিন্ডিকেট চক্রগুলো। প্রশাসন কোনক্রমেই থামাতে পারছে না তিস্তার বুক হতে অবৈধ পাথর উত্তোলন। এ সিন্ডিকেট চক্রগুলোকে তিস্তা নদী হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বন্ধ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তিস্তা পাড়ের মানুষজনের। এ কারণে ব্যাপক ভাঙনসহ মহা বিপর্যয় দেখা দিতে পারে সমগ্র তিস্তা এলাকায়। সীমাহীন ক্ষতির শিকার হওয়ার আশু সম্ভবনা দেখা দিয়েছে তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষের।

তিস্তাপাড়ের লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত তিস্তা নদী ও সংলগ্ন এলাকায় মহোৎসবে চলছে পাথর উত্তোলন। অবৈধভাবে তিস্তা হতে পাথর উত্তোলন কর্মকা-ের প্রতিবাদ করায় ইতিমধ্যে পাথর উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট চক্রের হাতে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন অনেকেই। এ অবৈধ কর্মকান্ডে প্রতিবাদ করে সর্বদাই নিরাপত্তাহীনতায় ও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় প্রতিবাদকারীদের তাই প্রতিবাদ করা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। প্রশাসনকে জানিয়েও তেমন একটা প্রভাব পড়ছেনা পাথর উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট চক্রটির উপর। এতে প্রতিয়মাণ হয় যে প্রশাসনের চাইতে তাদের ক্ষমতার দৌরাত্ম অনেকাংশেই বেশি। সে কারনে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তাদের ধ্বংসাত্মক নীলা।

দেখা গেছে, তিস্তা নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো নদীভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। ভাঙন এলাকা গুলোতে নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিন চালিত লোহার তৈরি যন্ত্র দিয়ে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের ছত্রছায়ায় পাঁচ শতাধিক ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, তিস্তা ব্যারাজের আশপাশে, তিস্তা বাজার, তেলির বাজার, চরখড়িবাড়ি, বাইশপুকুর, কালিগঞ্জ, ভেন্ডাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় পাথর উত্তোলনের আগের তুলনায় বেড়ে গিয়ে প্রায় ২০ টি প্রভাবশালী চক্র জড়িত হয়ে পড়েছে এই অবৈধ কাজে।

পাথর উত্তোলনকারীরা জানান, নৌকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাখা দিয়ে চলন্ত অবস্থায় নদীর তলদেশের বালু সরিয়ে পাথর তুলে পানির উপরে নিয়ে আসা হয়। এভাবেই নদীর বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সক্রিয় টিম পাথর উত্তোলন করছে। উত্তোলিত পাথর বাজার মুল্যে চেয়ে অর্ধেক মূল্যে নির্ধারিত সিন্ডিকেট চক্র ক্রয় করে প্রতি সেফটি ১শত হতে দেড় শত দরে বিক্রি করে আসছেন।

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা বলছেন, অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলণ করে অনক পাথর ব্যাবসায়ী রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আর আমরা তিস্তার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে দিন দিন সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছি। তিস্তা হতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে আমাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। অথচ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিরব ও অসহায় দর্শকের ভূমিকায় দাড়িয়ে চুপচাপ দেখছেন। তিস্তা নদী হতে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে কোন প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না তিস্তা নদী সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার রক্ষণা বেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সর্বোপরি সামগ্রিকভাবে দায়িত্বে থাকা এ দপ্তরটি সর্বদাই নিজ দায় দায়িত্ব এড়িয়ে চলছেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী, তিস্তা নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলনের দায়-দায়িত্ব নিতে একে বারেই অনিহা প্রকাশ। তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পাথর উত্তোলন বন্ধের দায় দায়িত্ব পাউবোর না। পাথর উত্তোলন বন্ধ বা উত্তোলনকারীদের শাস্তি দেয়ার দায়-দায়িত্ব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, শুধু জেলা-উপজেলা প্রশাসনের উপর দায় চাপালে হবে না। তিস্তা ভাঙন রোধ,বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধ রক্ষাসহ তিস্তা ব্যারেজের সেচ প্রণালীর চলমান কার্যকারিতা টিকিয়ে রাখতে সর্বোপরি তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নস্যাতের হাত থেকে রক্ষার্থে তিস্তানদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে পাউবো কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পাড়েনা। তাদের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে এ কাজে । তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলনের আইনগত কোন সুযোগ নেই। আইন অমান্য করে তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলন করা হলে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর হস্তে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হবে। এ ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবেনা। এটা পরিষ্কার বার্তা দিতে চাই সকলকে।

সম্প্রতি

আরও খবর