জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক সাহসী নারীর নাম পূর্ণিমা রানী বিশ্বাস। পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর এলাকার রতনপুর গ্রামের এ নারী সর্বস্ব হারিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। সন্তানের লেখা-পড়ায় ছেদ ঘটতে দেননি একবিন্দুও। ২০২০ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পূর্ণিমা রানীর সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস চার কুড়ি পানের বরজ ধ্বংস হয়ে যায়। অসহায় হয়ে পড়ে পূর্ণিমা বিশ্বাসের পরিবার, বেকার হয়ে পড়েন তার স্বামী নিখিল বিশ্বাস। এমনকি তার একমাত্র মেয়ে মানবিকা বিশ্বাসের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। দিশেহারা অবস্থায় পূর্ণিমা বিশ্বাস জানতে পারেন, গলাচিপা উপজেলায় দরিদ্র অসহায় লোকদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য আইডিবির অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন সুদমুক্ত ঋণ বিতরণ করছে। এ সময় সংস্থাটির কাছে হাজির হন পূর্ণিমা বিশ্বাস। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী রতনপুরে হজরত জয়নব (রা.) কেন্দ্রে পাঁচ জন করে ৩টি গ্রুপ গঠন করা হয়। আবেদন আর তিন কপি ছবি দিয়ে সুদমুক্ত ঋণ গ্রহণ করেন পূর্ণিমা বিশ্বাস। প্রথম দফায় ১০ হাজার টাকায় শুরু করেন হোগলা পাতার পাটি বোনার কাজ।
এলাকায় পাটির বেশ চাহিদাও রয়েছে। কারণ পাটি দিয়ে বরফ বাঁধাই, মাছের ডোল তৈরি করাসহ নানা কাজে পাটির ব্যবহার হয়ে থাকে। পূর্ণিমা বিশ্বাস হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে দৈনিক গড়ে পাঁচটি পাটি তৈরি করে বাজারজাত করেন। প্রতিটি পাটি ১৪০ করে বিক্রি সপ্তাহে আয় করেন এক হাজার ৪০০ টাকা। বিভিন্ন খরচ ও সপ্তাহে কিস্তি বাদে তার জমা থাকে ৫০০ টাকা। সম্পূর্ণ টাকা শোধ করে আবার ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পানের বরজটি ফের তৈরি করেন পূর্ণিমা বিশ্বাস। এতে তার কর্মক্ষেত্র আরো প্রসারিত হয়। স্বামী-স্ত্রী সমান তালে ঘরে-বাইরে কাজ করে সংসারের অর্থনৈতিক ভিত্তি দাঁড় করালেন। দু’দিক থেকেই আয় হতে লাগল তাদের। অন্যের কাছে আর হাত পাততে হলো না পূর্ণিমার। বর্তমানে তাদের মা-বাবাসহ পাঁচ জনের সংসারে অভাব-অনটন কমে গেছে।
পড়াশোনারও ছেদ ঘটেনি মেয়ে মানবিকা বিশ্বাসের। তিনি বর্তমানে স্নাতক শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন। পূর্ণিমা বিশ্বাস জানান, বর্তমানে ৩০ হাজার টাকায় সপ্তাহে ৭৫০ টাকা হারে কিস্তি দিতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৩টি কিস্তি দেওয়া হয়েছে। কিস্তি দিতে কোনো সমস্যা হয় না। তিনি এখন সুখী জীবনযাপন করছেন। পূর্ণিমা বিশ্বাসের অনুকরণে ওই গ্রামে আরো ৫০টি পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখছে। এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলার ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের ইউনিট ইনচার্জ মো. শহীদুল ইসলাম জানান, অসহায় ও দারিদ্র্য-পীড়িত লোকদের মধ্যে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি।



