মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার আমনধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে আমনজাতের ধানকাটা ও মারাই শুরু হয়েছে। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। এতে করে উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটাকে বোনাস ফসল হিসেবে ধরে নিয়েছে। কারণ বিগত ২০ বছরের মধ্যেও আমাদের এলাকায় এতো ভালো আমন ধান হয় নাই।
সরজমিনের গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলি মাঠে মাঠে এখন সোনালী আমন ধান কাটা মাড়ায়ের কাজ চলছে। কৃষকেরা ধান কেটে নিচ্ছে কেউ হাতে মাড়াই করছে। বিগত বছরগুলোতে এই সময় গরুর খাদ্যেও সংকট দেখা যেত। এবার তাদের গরুর খাদ্যেও সংকট হবেনা বলে জানান তারা। সমেতপুর গ্রামের মো. মামুন সরদার ও আমিনুর রহমান বলেন আমরা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে এ বারের মতো আমন ধান দেখি নাই। এবার আমাদেও এলাকায় যারা আমন ধান রোপন করেছে সবারই ভালো ফলন হয়েছে।
প্রতিমন আমন ধানের বাজার মূল্য ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বাজাতে বিক্রি হচ্ছে। আমন ধান উৎপাদন করতে আমাদেও খরচ অনেক কম হয়। এতে করে সরিষা, আলু, পেঁয়াচ আবাদ করার জন্য অর্থনৈতিক ভাবে আমাদের কোন সমস্যা হবেনা। রামচন্দ্রপুর গ্রামের মো. হারুন শেখ ও কয়েকজন দিনমজুর শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা দৈনিক সংবাদকে বলেন বিগত বছরগুলো এই সময়ে আমরা বেকার সময় পার করেছি। অসময়ের এ ফসল কাটার কাজ পেয়ে আমরাও অনেক খুশি। তারা দিন প্রতি ১০০০ টাকা করে কাজ করছেন।
দৌলতপুর থানার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতপুর থানা কৃষি কর্মকর্তা সংবাদ কে বলেন চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছে ১০০০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমীর চেয়ে এবার আমন ধানের ফলন বেশি হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে আবাদও ফলনবৃদ্ধি পাবে। ধানের ফলন ভালো হওয়ায় ও দাম বেশি পাওয়ায় খুশি কৃষক। দুই ফসলি জমিতে তিন ফসলি করতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এজন্য কৃষি বিভাগ মৌসুমের শুরু থেকে প্রচার সহ কৃষকদের ধান উৎপাদনে কাজ করে আসছে বলেন জানান তিনি।



