রোববার বিকালে এমপিওভুক্তির দাবি নিয়ে সচিবালয়ের দিকে পদযাত্রা করতে গিয়ে শিক্ষকরা পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শিক্ষকরা দাবি করেছেন।
‘ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ’-এর সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মুনিমুল হক বলেন, “পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিলাম। জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আমাদের আটকে দেয়। কিছুক্ষণ পর আমাদের ওপর লাঠি হাতে হামলা চালানো হয়। সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানের মুখে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।”
মুনিমুল হক আরও জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। “কয়েকজন সিটি স্ক্যান করছেন, আর অন্যরা চোট পেয়েছেন।”
অধ্যক্ষ মুনিমুল হক জানান, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। এই দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ১৭ দিন অবস্থানের পর ১২ মার্চ তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস পাওয়ার কথা তুলে ধরে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে ২ নভেম্বর থেকে আবারও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। ৩ নভেম্বর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা অবস্থান করছেন।
রোববার সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা পুলিশের বাধায় ব্যর্থ হওয়ায় অধ্যক্ষ মুনিমুল হক বলেন, “আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব। একবার আশ্বাসে আমরা ফিরে গেছি, কিন্তু এমপিওভুক্তির আদেশ ছাড়া আমরা ফিরব না। আমরা অনশন কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত রমজান মাসে এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১৭ দিন অবস্থান করার পরও শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা সচিব শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা না পেয়ে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক কর্মচারীরা দেয়ালের পিঠে ঠেকেছেন। সরকারকে আহ্বান জানাই এমপিও নীতিমালা ও পরিপত্রের অসম খেলা বন্ধ করে সব ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার। তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।”



