বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
হোমখবররাজনীতিবিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা, সাবেক দুই এমপিসহ আসামি ৮ শতাধিক

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা, সাবেক দুই এমপিসহ আসামি ৮ শতাধিক

প্রতিনিধি, বোয়ালমারী (ফরিদপুর)

সম্পর্কিত সংবাদ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলায় ১২৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৮৭৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় কোনো আসামী গ্রেফতার নেই বলে জানাগেছে।

গতকাল রোববার বিকেলের দিকে মামলা দুটি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান। এর আগে গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে মামলা দুটি রুজু করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, একটি মামলার বাদী হয়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থক। তাঁর দায়েরকৃত মামলায় ১৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-২৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে? এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে।

অপর মামলার বাদী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। তিনি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক। তাঁর মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে (৬০) এবং দুই নম্বর আসামী করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মো. আবু জাফরকে(৮০)। এছাড়া তিন নম্বরে রয়েছে সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু (৭৫)।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, আসামীদের মধ্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ও শামসুদ্দীন মিয়া ঝুনু ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলের প্রাথমিক তালিকায় দুজনের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত এক বছর যাবৎ রাজনৈতিক আধিপত্য চলে আসছিল। এর জের ধরে গত শুক্রবার বিকালে উপজেলা সদরের ওয়াপদা মোড় এলাকায় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে কর্মসূচি থেকে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র চাইনিজ কুড়াল, রামদা সহ দেখা যায়। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্ততপক্ষে অর্ধশত কর্মী সমর্থকেরা আহত হোন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একটি মামলার বাদি মজিবুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরেকটি মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম বলেন,গত শুক্রবার আমাদের বিকালের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় এবং ঝুনু মিয়ার কর্মসূচি ছিল সকালে। কিন্তু আমাদের কর্মসূচিকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য উনারা বিকালে আয়োজন করে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। যার পেছনে উস্কানি দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফর ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু। এই বাচ্চু সাহেবের ছেলের নেতৃত্বে খারদিয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসেছিল। এছাড়া তাঁর দায়েরকৃত মামলা ভিন্নদৃষ্টিতে নেয়ার জন্য পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাহামুদুল হাসান বলেন, শনিবার পৃথক দুটি অভিযোগ করা হয়। তাঁর প্রেক্ষিতে রাতেই পেনালকোড ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দুটি রুজু হয়েছে। এখনও কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি

আরও খবর