রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরআন্তর্জাতিকভেনেজুয়েলা যেকোনও মার্কিন সামরিক আগ্রাসন মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভেনেজুয়েলা যেকোনও মার্কিন সামরিক আগ্রাসন মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসন ঠেকাতে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখছে। মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো এক বিবৃতিতে বলেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে “স্থল, বিমান, নৌ, নদী ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনা বাহিনী ব্যাপকভাবে মোতায়েন” করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ, মিলিশিয়া ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত বাহিনীগুলোও মোতায়েন রাখা হচ্ছে।

বিবৃতিটি এমন সময়ে এল যখন এই অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর আগমন ভেনেজুলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধী) সরকারের পতনের লক্ষ্যে দেশটিতে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জল্পনা উস্কে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অবৈধ মাদক চোরাচালান ব্যাহত করতে এবং দেশ রক্ষা করার জন্য এই সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা ছিল। ট্রাম্প কর্মকর্তারা মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার গ্যাং ত্রেন দে আরাগুয়ার তৎপরতার হোতা বলেও অভিযুক্ত করেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে এই গ্যাংয়ের উপস্থিতি কম। তবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার সহযোগীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র “সাম্রাজ্যবাদী” লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা বড় আক্রমণ মোকাবেলার জন্য সীমিত। যদিও সরকার সেনাদের মনোবল বাড়াতে সম্ভাব্য মার্কিন হুমকির কথা বলছে, মাদুরোকে দেশে গণঅসন্তোষ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি এবং প্রতিবাদ দমনঅভিযানের অভিযোগও রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানগুলোতে একের পর এক হামলা শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানী জাহাজ লক্ষ্য করে কমপক্ষে ১৯ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ জন নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে স্থল হামলাও চালানো হতে পারে। তবে অক্টোবরের শেষ দিকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি ভেনেজুয়েলার ভেতরে হামলার কথা ভাবছেন কি না। তখন জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘না’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইউএস-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ শতাংশ মানুষ স্থল হামলার বিরুদ্ধে, এবং ১৯ শতাংশ মানুষ তা সমর্থন করেন।

ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনী মাদুরোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকার সেনাদের যথাযথ খাদ্য ও সরবরাহ জোগাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের একটি অভ্যন্তরীন নথিতে প্রায় ২৮০টি স্থানে ছোট ছোট ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে তারা যেকোনও সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নাশকতা ও গেরিলা কৌশল ব্যবহার করতে পারবে।

সম্প্রতি

আরও খবর