রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশবোয়ালখালীতে বেশি লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ

বোয়ালখালীতে বেশি লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষ

প্রতিনিধি, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

সম্পর্কিত সংবাদ

শীতের শুরুতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কৃষকেরা। মাঠ জুড়ে চলছে এখন শীতকালীন আগাম সবজি চাষের ব্যস্ততা।

গতকাল বুধবার বিকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কেউ ফসলে আগাছা বাছাই করছেন, কেউ পোকামাকড় দমনে ওষুধ ছিটাচ্ছেন, কেউ চাষ দিয়ে চারা রোপণের জন্য জমি তৈরি করছেন কেউ আবার জমি থেকে মূলা, শসা ও শাক তুলছেন বাজারে বিক্রির জন্য।

তবে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় বীজতলা ও খেত নষ্ট হওয়ার ফলে নতুন করে ফসল ফলাতে হচ্ছে। এতে খরচ ও শ্রম দুই-ই বেড়েছে বলে জানান অনেক কৃষক।

উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে এরই মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, টমেটো, শিম, লাউ, শসা, করলা, মিষ্টিকুমড়া ও ধনেপাতা, লালশাকসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষ হয়েছে।

এবার অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ৩৮ শতক জমিতে আগাম মন্টিন (জাপানি) জাতের ফুলকপি লাগিয়েছেন ওই এলাকার কৃষক রূপক দে, ও ঝুন্টু দে।

এখন লাগানো হবে হাইব্রিড স্নো-বক্স জাতের ফুলকপি ও এটলাস-৭০, এবং গ্লোরী- ঋ১ জাতের বাঁধাকপি। আর ১৫-২০দিন পর লাগানো হবে স্নো-ওয়াইট জাতের ফুলকপি। যা মৌসুমের শুরু, মাঝামাঝি ও শেষ সময়ে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

রূপক দে বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক ও মুজুরিসহ এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাদের। ডিসেম্বরে ফসল তোলা যাবে। এতে আরও ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হবে। এখন নিয়মিত পরিচর্যা আর পোকামাকড় দমন করছি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জোয়ারের পানিতে কিছুটা ক্ষতি হলেও এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ৩৮ শতক জমিতে খরচ বাদে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তারা।

৪০ শতক জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা, শসা, বেগুন, টমেটো লাগিয়েছেন জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ইছাক। তিনি বলেন, কিছু জমিতে আগে মূলা, শসা ও বেগুন লাগিয়েছিলাম সেগুলো থেকে এখন ফলন পাচ্ছি। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ফসল ভালোই হবে আশা করি। তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমাদের এখানের সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে দূরদূরান্তেও যায়। সরকার থেকে ভালো সহযোগিতা ও অনুদান পাই তাহলে আরো ভালোভাবে ফসল ফলাতে পারবো। একই কথা জানিয়েছেন কৃষক বিশ্বজিৎ দে, দোলন দে, মো. খোকন, এনামুল হক, মনা বড়ুয়া ও মো. শাহেদ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ২০ হেক্টরে বাঁধাকপিসহ মোট ১৫০০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য সবজির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে বাজারে শীতকালীন সবজি উঠলেও এবার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৌসুমের শুরুতেই সবজি বাজারে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র দে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান বলেন, আমন ধান কাটার পাশাপাশি কৃষকরা আগাম শীতকালীন বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু করেছেন। এখন বাজারে আগাম সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হবেন কৃষকেরা। আগাম চাষে কিছুটা ঝুঁকি থাকে, তবে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ, সুষম সার ব্যবহারে ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পরামর্শ প্রদানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষ করে কৃষকরা যেন লাভবান হন এবং কোনো সমস্যায় না পড়েন সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি।

সম্প্রতি

আরও খবর