রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবররাজনীতিঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকলে বাতিল হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট

ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকলে বাতিল হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য আইটি–সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিপত্র জারি করে জানিয়েছে—ঘোষণাপত্রে যথাযথ স্বাক্ষর না থাকলে সেই পোস্টাল ব্যালট গণনার আগেই বাতিল ঘোষণা করবেন রিটার্নিং অফিসার।

বুধবার জারি করা ইসির পরিপত্রে জানানো হয়, গণনার জন্য প্রাপ্ত খাম খুলে রিটার্নিং অফিসার প্রথমে ঘোষণাপত্রে যথাযথ স্বাক্ষর আছে কি না তা পরীক্ষা করবেন। যথাযথ স্বাক্ষর না থাকলে ব্যালটের খাম না খুলেই ঘোষণাপত্র প্রত্যয়ন করে ‘বিনষ্ট/বাতিল’ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে নিবন্ধন থেকে শুরু করে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত ভোটাররা অনলাইনে আবেদন করে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। আবেদনকারীর তথ্য যাচাই শেষে ডাক বিভাগ বিদেশের ঠিকানায় ব্যালট পাঠাবে।

প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর ভোটাররা অ্যাপে নিজের আসনের প্রার্থী তালিকা দেখে প্রাপ্ত ব্যালটে ভোট দেবেন এবং তা ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। পোস্টাল ব্যালট প্রেরণের অগ্রগতি অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি

১. ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটারকে যে দেশে আছেন সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

২. গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।

৩. অ্যাপে ভাষা নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনা জানা যাবে।

৪. নিবন্ধন সম্পন্ন হবে ওটিপি, লাইভনেস এবং এনআইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে।

৫. বিদেশে ব্যালট পাঠানো নিশ্চিত করতে সঠিক ও নির্ভুল ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

ভোটারের কাছে পাঠানো হবে যেসব উপকরণ

নিবন্ধিত ভোটাররা ডাকযোগে পাবেন—

পোস্টাল ব্যালট পেপার,

ভোট প্রদানের নির্দেশিকা ও ঘোষণাপত্র সংবলিত একটি কাগজ,

ব্যালট ফেরত পাঠানোর জন্য রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা লেখা খাম।

খাম পাওয়ার পর অ্যাপে লগইন করে খামের ওপরের কিউআর কোড স্ক্যান করলে ব্যালট পেপারটি সিস্টেমে শনাক্ত হবে।

ভোট প্রদানের পদ্ধতি

(ক) ব্যালট পেপারে সব প্রতীক মুদ্রিত থাকবে। ভোটারকে নির্দেশিকা পড়ে ঘোষণাপত্রে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, নিজের নাম ও এনআইডি নম্বর লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। ঘোষণাপত্র ছাড়া কোনো ব্যালট বৈধ হবে না।

নিরক্ষর/অক্ষম ভোটার অন্য বৈধ ভোটারের সাহায্য নিতে পারবেন।

(খ) প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপে বা ইসির ওয়েবসাইটে প্রার্থীর তালিকা দেখা যাবে। এরপর ব্যালট পেপারে নির্দিষ্ট প্রতীকের পাশে টিক (✓) বা ক্রস (×) চিহ্ন দিতে হবে। অ্যাপে ভিডিও টিউটোরিয়ালও থাকবে।

(গ) ভোট চিহ্নিত করার পর ছোট খামে ব্যালট রেখে খাম বন্ধ করতে হবে এবং ঘোষণাপত্রসহ বড় খামে রেখে রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠাতে হবে। ‘সেলফ অ্যাডহেসিভ’ খাম হওয়ায় টেপ খুললেই খাম সিল হয়ে যাবে। ভোট পাঠাতে প্রেরকের কোনো ডাকমাশুল দিতে হবে না—এটি সরকার প্রদত্ত।

(ঘ) কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যালট পাঠানো থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অ্যাপের মাধ্যমে ট্র্যাক করা যাবে।

রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব

ডাকযোগে খাম পাওয়ার পর কিউআর কোড স্ক্যান করে রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন।

ঘোষণাপত্রবিহীন বা স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট খাম বাতিল হিসেবে আলাদা রাখবেন।

বৈধ ঘোষণাপত্রযুক্ত ব্যালটগুলো গণনার জন্য সংরক্ষণ করবেন।

পোস্টাল ব্যালট গণনা

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একটি পৃথক গণনা কক্ষ থাকবে। গণনার সময় প্রার্থী, এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।

গণনা পদ্ধতি—

(ক) ব্যালট খাম খুলে ব্যালট বের করে প্রার্থীভিত্তিক আলাদা করে গণনা করা হবে।

(খ) ভোট অস্পষ্ট হলে তা বাতিল ঘোষণা করা হবে।

(গ) ফলাফল সাধারণ কেন্দ্রের মতো লিপিবদ্ধ ও প্রকাশ করা হবে।

(ঘ) নির্ধারিত সময়ের পর কোনো খাম এলেও তা গ্রহণের তারিখ–সময় লিখে সংরক্ষণ করা হবে এবং সংখ্যা প্রকাশ করা হবে।

সবশেষে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল অন্যান্য কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে একীভূত করে সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন। পোস্টাল ব্যালটের ফল যুক্ত না করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না।

সম্প্রতি

আরও খবর