মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশচট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ

প্রতিনিধি, কক্সবাজার

সম্পর্কিত সংবাদ

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে রোববার, (৩০ নভেম্বর ২০২৫) সকাল থেকে সর্বাত্মক অবরোধ (ব্লকেড) কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনা, স্থায়ী যানজট ও সীমাহীন ভোগান্তির প্রতিবাদে সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এবং চকরিয়ার মাতামুহুরি ব্রিজ এলাকায় এ অবস্থান কর্মসূচি চলছে। সকাল ৯টা থেকে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে মহাসড়কে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হাতে ব্যানার, মাথায় রোদ আর কণ্ঠে স্লোগান—‘৬ লেন চাই, প্রাণ বাঁচাই’—এভাবেই বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অটল অবস্থান জানান।

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন ব্যানারে আয়োজিত এ ব্লকেডে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বলেন, মহাসড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে—সংবাদপত্র খুললেই যার নজির পাওয়া যায়। তাদের দাবি, বারবার অনুরোধ ও দাবি জানানোর পরও সড়ক উন্নয়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচিতে নামতে হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “এই সড়ক শুধু স্থানীয়দের যাতায়াতের পথ নয়—দেশের অর্থনীতি, পর্যটন, এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। অথচ দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়ক অনেক জায়গায় পাড়ার গলির চেয়েও সরু। জাঙ্গালিয়ার মতো কিছু অংশ ঢালু ও আঁকাবাঁকা। রাতে লবণবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর সরকারি কর্তৃপক্ষ সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয় না। ফলে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এর আগে, একই দাবিতে গত ৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন স্থানীয়রা। পরে ১১ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছেও স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় আন্দোলনকারীরা আবারও রাস্তায় নামে এবং এবার সরাসরি মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়।

সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে শুধু দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-, পর্যটন এবং মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন হবে বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা।

তাদের একটাই দাবি—“এ সড়কে আর প্রাণহানি নয়, দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করা হোক।”

সম্প্রতি

আরও খবর