সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশমাকে ইটের সুরকি দিয়ে আঘাত, ছেলেকে মাটিতে পুঁতে রাখে স্থানীয়রা

মাকে ইটের সুরকি দিয়ে আঘাত, ছেলেকে মাটিতে পুঁতে রাখে স্থানীয়রা

প্রতিনিধি, শ্রীপুর (গাজীপুর)

সম্পর্কিত সংবাদ

গাজীপুরের শ্রীপুরে মা’র কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে ইটের সুরকি দিয়ে মা’কে আঘাত করায় ছেলে খলিলুর রহমানকে (২৬) আটক করে গর্তে (কোমর পর্যন্ত) পুঁতে রাখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ওই বাড়িতে ভিড় জমায়। এ ঘটনায় বাবা নুরুদ্দিন ছেলের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। যুবককে গর্তে পুঁতে রাখার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে আটক করে।

খলিলুর রহমান তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের নুরুদ্দিনের ছেলে। শনিবার,(১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি (মধ্যপাড়া) গ্রামের গ্রীণ স্মার্ট পোশাক কারখানাসংলগ্ন স্থানে ঘটনাটি ঘটে।

খলিলের মা খোদেজা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে ঘর ভাড়ার আড়াই হাজার টাকা তুলে আমার কাছে জমা দেয়। শনিবার সকালে ওই টাকা আমার কাছে চাইলে আমি দেইনি। আমি তাকে বলি বিদ্যুৎ বিল, খাওয়ার বাজার, আমার ওষুধ আনতে হবে। পরে আবার টাকা চায়, আমি টাকা দিতে না চাইলে তর্কের একপর্যায়ে ইটের সুরকি ঢিল মারে। যা আমার পায়ের টাকনুর কাছে লেগে আঘাত পাই। তার মাথায় একটু সমস্যা আছে। টাকা দিয়ে বিড়ি অথবা গাঁজা খাইতো। মাঝে মধ্যে টাকা চায়, না দিলে মারে। আরও দুইদিন আমাকে মারছে। আমার ছেলেও আমার মতো অসুস্থ, সেও কাঁপে। কাজকর্ম করতে পারে না। সে (ছেলে খলিল) যখন ক্লাস ফাইভে পড়ে তখন অনেক অসুস্থ ছিল। তখন বাংলাদেশ মেডিকেল, পিজি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে একমাস চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসক বলেছিল আবার যাওয়ার জন্য, গাফিলতি করে যাইনি। এখন দেখি মাথায় আরও সমস্যা। আগে যে সে আমাকে দুইদিন মারছিল, আমি যে লাঠি দিয়ে ভর করে হাঁটি ওই লাঠি দিয়ে, আমিও তাকে দুইদিন মারছি। আমাকে মারার খবর শুনে এলাকাবাসী আসলে আমি তাদেরকে বলেছি তাকে বেঁধে বিচার কর তোরা। মাইরা হাত-পা ভেঙে দে। যেহেতু সে কাজ কর্ম করতে পারে না, হাত-পা ভেঙে ঘরে বসায়ে রাখে।

খলিলের ভাবি রেহেনা আক্তার বলেন, সকালে একজন ফোন করে আমাকে জানায় খলিল তার মাকে মারছে। খবর পেয়ে এসে দেখি সত্যিই তার মাকে খলিল মারছে। পরে পাড়া-প্রতিবেশী এবং মুরুব্বিরা তাকে গর্তের মধ্যে বুক পর্যন্ত মাটি চাপা দিয়ে রাখে। পরে সে একাই গর্ত থেকে উঠে গেলে আবার তাকে ধরে বেঁধে রাখে। তার মাকে টাকার জন্য সে আরও দুইদিন মারধর করছে। সে মাঝে মধ্যে একটু নেশা করে। তবে আজকে নেশা করে নাই, সুস্থই ছিল। খলিলের নানির বাড়ির লোকজন এসে মারছে তাকে।

খলিলের বাবা নুরুদ্দিন বলেন, খলিল তার মার কাছে টাকা চাইছিল। না দেয়ায় সে তার মাকে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তার মামাতো ভাইয়েরা এসে কিছু বিচার (মারধর) করছে। পরে তাকে খুঁটিতে বেঁধে রাখছিল। পরে আনছার টেপিরবাড়ী-ছাতির বাজার সড়কের পশ্চিম পাশে (গ্রীণ স্মার্ট পোশাক কারখানাসংলগ্ন স্থানে) গর্তে পুঁতে রাখে। তবে গর্তে পুঁতে রাখার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। খলিল নেশা করে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি আলাদা থাকি। তার মা মামলা করার পর আমি এক সপ্তাহ জেল খাটি। পরে একটু জমি দিয়ে তার মামার সঙ্গে আমার মীমাংসা হয়। এরপর থেকে আমি তাদের কাছ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন (আলাদা) বসবাস করি। সামনে একটা দোকান ছিল। তখন দেখছিলাম ভালোভাবে চলাফেরা করছে।

শ্রীপুর থানার এসআই মুহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, মাকে মারধরের ঘটনায় তার বাবা নুরুউদ্দিন বাদী হয়ে ছেলে খলিলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।

সম্প্রতি

আরও খবর