লক্ষীপুর জেলার সদর থানার মতলবপুর এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ মহসীন কবির মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস মাদ্রাসায় চাকরি করতো। পরবর্তীতে মাদ্রাসার চাকরি ছেড়ে দিয়ে ৫ লাখ টাকা খরচ করে ২০২৪ সালে ডিসেম্বর মাসে সৌদি আরবে যান। সেখানে বাংলাদেশি মোরশেদ আলমের ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন।
১০ হাজার রিয়েল মুক্তিপণ দাবি করেছিল
চার বাংলাদেশিকে অভিযুক্ত করে স্ত্রীর মামলা
দুই মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন ও ময়নাতদন্ত করা হয় – তদন্ত কর্মকর্তা
সেখানে তাকে ঠিকমতো বেতন-ভাতা দিতো না। আর্থিক লেনদেন নিয়ে তখন দ্বন্দ্বে জড়ান। এরপরই মহসীনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যা করা হয় বলে তার স্ত্রী লক্ষীপুর জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমদলী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। মহসীনের স্ত্রী ও মামলার বাদী রওশন আক্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে মহসীন বাসায় ফেরার পথে রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় কিছু দূষ্কৃতকারী তাকে অপহরণ করে একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এর ৩-৪ দিন তার আর খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে গত ২০ আগস্ট সন্দেহভাজন মোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে জানায়, মহসীনকে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এরপর বিদেশি নম্বরে ফোন করে ১০ হাজার রিয়েল মুক্তিপণ দাবি করে বার্তা পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনো ঠিকানা বা বিকাশ নম্বর দেয়নি। এরপর অপহরণকারীদের ফোন নম্বরে ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায় বলে স্ত্রী রওশন জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউ কোনো মুক্তিপণ চাইছে কিনা মোরশেদ আলম জানতে চায়। ঘটনার ১৩ দিন পর অপহরণকারীরা মহসিন কবিরকে হত্যা করছে বলে মোরশেদ আলম পরিবারকে জানায়। এরপর লাশ দেশে পাঠায়।
মামলার বাদী রওশন আক্তার আদালতে অভিযোগে জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে লাশ দেশে ফেরত পাঠায়। গত ২ অক্টোবর পরিবার লাশ গ্রহণ করে এবং লক্ষীপুর সদর থানার মতলবপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
এদিকে সৌদি আরব থেকে নাম গোপন রাখা শর্তে মামলার বাদীকে ফোনে জানায় তার স্বামীকে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে হত্যার আলামত গোপন করছে বলে মামলায় অভিয়োগে বলা হয়েছে।
মামলার ৪ আসামি হলো- মোরশেদ আলম, পিতা সিরাজ উল্লাহ, হাসন্দী (বলের বাড়ি), মো. হাছিব, পিতা কাঞ্চন বেপারী, সাং রসুলনগর, মো. রায়হান, পিতা মো. মিলন, সাং বাঞ্চানগর ও রোকসানা আক্তার, স্বামী মোরশেদ আলম, সাং হাসন্দী। তাদের ৪ জনকে মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লক্ষীপুর সদর থানার এসআই মোবারক হোসেন, আদালতের নির্দেশে গত সোমবার লক্ষীপুর সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামে বাড়ির পাশের কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে লাশের ময়না তদন্ত শেষে লাশ আবার রাতে বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।
শনিবার,(১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন বলেন, মামলাটি আদালতে (সিআর মামলা) করছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তা আদালতে দাখিল করবো। এরপর আদালত যে আদেশ দিবেন সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে। আর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিবেন।
এদিকে মামলার বাদী রওশন আক্তার সংবাদকে মুঠোফোনে জানান, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে তিনি এখন তিন মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে নানা কষ্টে দিন কাটছেন। আত্নীয়-স্বজনদের সহযোগিতা নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। এরপরও তিনি স্বামী হত্যার বিচার চান।
এ সম্পর্কে মালিবাগ সিঅইডি অফিসে যোগাযোগ করলে একজন বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, বাদী ইচ্ছে করলে আবেদন দিয়ে এই ধরনের মামলা সিআইডিতে স্থানান্তর করলে সিআইডি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে। এরপর সিআইডি এ সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।



