দেশের একজন প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও সংগঠক খায়রুল আনাম শাকিল। যিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরলসভাবে নজরুল সংগীত চর্চা ও প্রসারে কাজ করছেন এবং ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি শুধু গানই করেন না, নজরুল সংগীতের গবেষণা ও প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, যেমন নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শনিবার ছায়ানট মিলনায়তনে খায়রুল আনাম শাকিলের সংগীত জীবনের ৫০ বছর উপলক্ষে অনুরাগী এবং খায়রুল আনাম শাকিলের ছাত্র-ছাত্রীদের এক আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডা. সারওয়ার আলী, মাহফিল হক, সুলতানা কামাল এবং মাহমুদুর রহমান বেলা। এই অনুষ্ঠানে খায়রুল আনাম শাকিল তার পছন্দের ১৫ টি গান গেয়ে শোনান। যার মধ্যে এ নওজে বিলাস বন্ধু, পাগলের ভাবনা ঘুম, হে প্রিয় আমার দিব না ভুলিতে, আবার ভালোবাসার সাধ জাগে, কেন আনা ফুল-ডোর, সেদিনের সোনা বধূ সন্ধ্যা, সোনার হাতে সোনার কাঁকন, মম মনের বেদনা, পথ হারাবো বলে ইত্যাদি।
শুরুতে খায়রুল আনামের ছাত্র-ছাত্রীরা “এক অপ্সরা রূপে মা তোমায় হেরিনু প্রিয়জনী” এই সমবেত সংগীতটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলের সংগীত জীবন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তপন মজুমদার। সহযোগিতায় ছিলেন এনিগমা টিভি।
মাত্র দশ বছর বয়সে সুরের জগতে প্রবেশ করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খালা তাহমিনা রব্বানীর কাছে গান শেখা শুরু করেন, যেখানে নজরুল, রবীন্দ্র ও ফোক গান চর্চা করতেন।
পরবর্তীতে ছায়ানট থেকে গানের মূল জ্ঞান আহরণ করেন এবং একাধিক গুরুজনের সান্নিধ্যে নিজেকে শাণিত করেন। তিনি নিয়মিত নজরুল সংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে বেনুকা অন্যতম। প্রায় ৫০ বছর ধরে নজরুল সংগীতের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, যা তার জীবনকে সংগীতের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছে।
সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে। তিনি কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নজরুল চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, নজরুল সংগীতের সুর পশ্চিমা থেকে গ্রহণ করা হলেও তা আমাদের মাটির সাথে মিশে গেছে এবং তিনি এ বিষয়ে বেশ আশাবাদী।



