স্টেশনের নাম সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশন। এক সময় প্রতিদিন ৪-৬ টি ট্রেন নিয়মিত স্টেশনে থামতো। ট্রেনের যাত্রীদের কোলাহলে স্টেশন থাকতো মুখরিত। বিক্রি হতো টিকিট। বলছিলাম নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলা সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনের কথা। বেসরকারিভাবে চলে রকেট নামক মেইল ট্রেন আরো একটি সরকারিভাবে চালু ছিল উত্তরা ট্রেন। তবে উত্তরা ট্রেন ৩-৪ বছর ধরে বন্ধ হয়ে গেছে।
২০০৮ সালে থেকে সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ। বর্তমান রকেট নামক মেইল ট্রেন খুলনা টু চিলাহাটি ২৪ আপ-২৩ ডাউনে চলাচল করে। এই ট্রেন থামলেও যাত্রীদের স্টেশন কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট বিক্রি হয় না। তবে যাত্রীদের টিকেট দেওয়া হয় ট্রেনের মধ্যেই।
রেলওয়ে স্টেশনের পোর্টার পোস্টে থাকা আ: জব্বার বলেন, আমি এগারো সাল থেকে এই স্টেশন দেখাশোনা কাজ করছি। জনবল না থাকার কারণে স্টেশনটি এখন বন্ধ রয়েছে। একটি রেল স্টেশন চালু রাখতে ৩ জন মাস্টার ৩ জন পোর্টার এবং ৩ জন পয়েন্টসম্যান প্রয়োজন হয়। জনবল না থাকার কারণে স্টেশন মাস্টারের অফিস? বন্ধ। রেলওয়ের কোয়ার্টার ভবন এখন পরিত্যক্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, রেলওয়ে জায়গাগুলো দখল করে অন্যকে লিজ দিচ্ছে। স্টেশনের আশপাশের জলাশয়গুলো ইজারা নিয়ে মাছের চাষ করছেন অনেকে। অনেকের আবার লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি বন্ধ থাকায় পরিত্যাক্ত ভবন গুলো মাদকসেবীদের আড্ডার কারখানায় পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ পেশী শক্তি প্রয়োগ করেও অনেকে সরকারি জায়গা দখল করে পরে আবার অন্যের কাছে বিক্রি করেছে।
সাহাগোলা গ্রামের অনেকেই জানান, অনেক ছোট ছোট রেলওয়ে স্টেশনে এখন ইন্টারসিটি ট্রেনের টপিস রয়েছে। আমাদের এই রেলওয়ে স্টেশন চালুর পাশাপাশি ইন্টারসিটি ট্রেন চালু থাকলে আমাদের ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। স্টেশনটি আবারও নতুন করে চালু করার জোর দাবি জানিয়েছে তারা। স্টেশনের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, এই রেল?ওয়ে স্টেশনে একটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এলাকার অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে রেলের জমি জবর দখল করে রেখেছেন। কেউ দেখেও না, খোঁজও নেয় না। সাহাগোলা এখন শুধু নামেই রেলওয়ে স্টেশন। সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং সহকারী গ্রেট-১ (ইনর্চাজ) সুব্রত কুমার দাস বলেন, আমাকে ঐ স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমাদের একজন স্টাফকে সেই স্টেশনের জিনিসপত্র দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছে। স্টেশনের সকল কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। আমি এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অনেকবার জানিয়েছি।



