Thursday, March 5, 2026
হোমখবরখেলানিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারাতে পারে বাংলাদেশ

নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারাতে পারে বাংলাদেশ

সম্পর্কিত সংবাদ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি টুর্নামেন্টে বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ। দুবাইয়ে খেলাটি শুরু হবে বিকেল ৩টায়।

ম্যাচের আগেরদিন অবশ্য বেশ ইতিবাচকই দেখালো বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে।

নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে হারানোর সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক শান্ত। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে টাইগার অধিনায়ক জানিয়েছেন দলের ব্যালেন্সের কথা। যদিও শান্ত এটাও বলেছেন যে প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি না ভাবার কথা।

শান্ত বলছিলেন, ‘এই সংস্করণে আমাদের দলটা ব্যালান্সড। আমরা বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে আমরা যে কোনো দলকে হারাতে পারি। সব দলই শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। আর আমি এমন কেউ নই যে প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ভাবি। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা যে কোনো দিন যে কোনো দলকে হারাতে পারি।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথাতেই জোর দিচ্ছেন টাইগার অধিনায়ক।

তিনি বলছিলেন, ‘আপনি যদি খেয়াল করেন তাহলে ৮টি দলই ভালো মানের। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভালো স্মৃতি আছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা বেশ কিছু ম্যাচও জিতেছি। গত বছর (আসলে ২০২২) ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ভালো স্মৃতি আছে। কিন্তু সেটা এখন অতীত। বৃহস্পতিবার যদি ভালো খেলতে পারি আর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ভালো একটা ম্যাচ হবে।’

উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমাদের (দুই ভেন্যুতেই) মানিয়ে নিতে হবে। এই উইকেট এতো হাই স্কোরিং নয় পাকিস্তানের তুলনায়। পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে টেস্ট খেলেছি, অনুমান করতে পারি উইকেট কেমন হবে। যেখানেই খেলি উইকেট মানিয়ে নিয়ে খেলতে হবে। উইকেটকে কঠিন কিছু ভাবতে চাই না। ছেলেরা দুই ভেন্যুতেই ভালো করতে মরিয়া। যেখানেই খেলি অনেক সমর্থক আসেন। হারি বা জিতি। দর্শকরা খেলার অংশ। আশা করি কালও আসবেন, আমাদের সমর্থন করবেন।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সম্ভাবনা যতটুকু তা বোধহয় পেস বিভাগ নিয়ে। যেখানে স্পার্ক হিসেবে আছেন ২২ পেরুনো তরুণ নাহিদ রানা। শান্ত জানান বেশ কিছু মানসম্পন্ন পেসার থাকায় এখন তাদের দলের আদল দারুণ, ‘এক সময় আমরা আমাদের পেস আক্রমণ নিয়ে সংগ্রাম করতাম। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আমরা কিছু মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলার পেয়েছি।

এখন নাহিদ রানা, তাসকিন যেভাবে বল করছে তাতে অনেক সাহায্য হয়। অধিনায়ক হিসেবে ফাস্ট বোলিং দেখতে ভালোবাসি। তাই আমি সত্যিই খুশি যে আমাদের ভালো ফাস্ট বোলিং ইউনিট আছে। তারা রাতের আলোয় বল সুইং করতে পারে। যদি তারা ভালো জায়গায় বল করে, তবে এটি আমাদের দলকে সাহায্য করবে।’

শান্ত বলেন, ‘রানার ওপর অবশ্যই কিছুটা অতিরিক্ত মনোযোগ থাকবে। তবে সে কখনই অনুভব করে না যে সে এতো বড় টুর্নামেন্টে আসার কারণে চাপের মধ্যে আছে। সে খুব স্বাভাবিক থাকে। সে ঠিকঠাক অনুশীলন করছে। অবশ্যই, যদি সে প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়, আমি বিশ্বাস করি সে তার সেরাটা দেবে।’

ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহ না থাকা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘নির্দিষ্ট কাউকে নিয়ে আমি ভাবছি না। তাদের অনেক মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে।

সাকিব আল হাসান দলে না থাকায় চিন্তিত নন নাজমুল হোসেন শান্ত, অন্য অলরাউন্ডাররা জ্বলে উঠবেন বলে বিশ্বাস বাংলাদেশ অধিনায়কের।

দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় এক সংবাদকর্মী বাংলায় জানতে চান, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো একটা টুর্নামেন্টে সাকিবের না থাকাটা কি চিন্তার কারণ?’ শান্তর উত্তর, ‘জ্বী না।’

দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে নিয়ে প্রশ্নে অবশ্য বড় উত্তর দিয়েই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন শান্ত।

‘আসলে এই প্রশ্নটা কেন করলেন আপনি, জানি না আমি। আমরা সবাই জানি, এই প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্রিকেটার দিয়েছে যে, ‘অবশ্যই আমরা সাকিব ভাইকে মিস করব, থাকলে ভালো হতো।’ আপনারা এই প্রশ্ন, এই উত্তর অনেকবার পেয়েছেন আপনারা।

আমার মনে হয় না, এত বড় একটি টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে আবার এই প্রসঙ্গে কথা বলাটা যৌক্তিক হবে।’

সাকিবের মতো ‘জেনুইন’ অলরাউন্ডারের উপযুক্ত বিকল্প পাওয়া কঠিন। তবে গত কিছুদিনে ব্যাটে-বলে তেমন কিছু হয়ে ওঠারই নির্ভরতা জোগাতে শুরু করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলে আছেন আরেক স্পিনিং অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেন। কার্যকর লেগ স্পিনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের ঝলক তিনি দেখিয়েছেন এর মধ্যেই। কিছুদিন আগে বিপিএল ফাইনালেও তার ক্যামিও ইনিংস বড় ভূমিকা রাখে ফরচুন বরিশালের শিরোপা জয়ে। মাহমুদউল্লাহকে আগের মতো অলরাউন্ডার এখন আর বলা না গেলেও প্রয়োজনে তিনি হাত ঘোরাতে পারেন। সৌম্য সরকার তো আছেনই। তানজিম হাসান ও নাসুম আহমেদের ব্যাটের হাতও খারাপ নয়।

শান্তর আশা, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখবেন পারবেন অলরাউন্ডাররা।

‘অলরাউন্ডাররা সবসময় দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। আমাদের ভালো কিছু অলরাউন্ডার আছে। আশা করি, তারা আগামীকাল পারফর্ম করবে এবং দলের জন্য নিজেদের মেলে ধরবে।’

সম্প্রতি

আরও খবর