Thursday, March 5, 2026
হোমখবরক্যাম্পাসআবাসিক হল এলাকায় প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

আবাসিক হল এলাকায় প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে বর্জ্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

সম্পর্কিত সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এলাকায় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সাধারণত শিক্ষার্থীদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র, হলের ক্যান্টিন-দোকানের ময়লা ও গাছের ঝরে পড়া পাতা থেকে এসব বর্জ্যের উৎপত্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি না থাকায় বর্জ্যের একটি অংশ সিটি কর্পোরেশন নিয়ে গেলেও বড় একটি অংশ হলে থেকে যায়। আর সেগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর পুড়িয়ে দেয় হল কর্তৃপক্ষ। পোড়ানোর সময় সৃষ্টি হয় তীব্র ধোঁয়া। যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে হলে বসবাসরত আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, রোকায়া হল ও শামসুন্নাহার হল প্রাঙ্গণে, হলপাড়া নামে পরিচিত মাস্টারদা সূর্যসেন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কবি জসীমউদ্দিন হল এলাকায় কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়তই আগুন জ্বলছে। সবচেয়ে বেশি আগুন জ্বলতে দেখা যায় জসীমউদ্দিন হলের ভেতর ও বঙ্গবন্ধু হলের প্রবেশধারে।

এ বিষয়ে হলগুলোর প্রাধ্যক্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিটি করপোরেশনের উপর দোষ চাপান তারা। কবি জসীমউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহীন খান সংবাদকে বলেন, আমরা সিটি কর্পোরেশনকে বারবার বলা স্বত্তেও তারা সব বর্জ্য নিয়ে যায় না। এজন্য আমাদের এগুলো পুড়িয়ে ফেলতে হয়। তার সাথে সুর মিলান বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আকরাম খানও।

এদিকে ভিন্ন কথা বলেন ঢাবি এলাকার ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ। বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ার জন্য ঢাবি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে তিনি বলেন, এস্টেট অফিস ও হল প্রশাসন আমাদেরকে জানালে আমরা যেকোনো ধরনের বর্জ্য ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাই। তারা না জানালেতো আমাদের কিছু করার নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা এস্টেট অফিসকে এ বিষয়ে দায়সারা ভাব ও নির্বিকার থাকতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার(ভারপ্রাপ্ত) ফাতেমা বিনতে মোস্তফার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি।

এদিকে সৃষ্ট ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে হলে বসবাসরত আবাসিক শিক্ষার্থীরা। বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরেও। নাজমুস সাকিব নামক এক আাবসিক শিক্ষার্থী বলেন, ঢাকা বায়ু দূষণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর একটি। আমাদের ক্যাম্পাসে গাছপালা থাকার কারণে তুলনামূলকভাবে এখনকার বায়ু অন্যান্য এলাকা থেকে ভালো। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত বর্জ্য পোড়ানোর ফলে প্রচুর ধোঁয়া সৃষ্টি হচ্ছে। যা একইসাথে বায়ু দূষণ করছে ও আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.স.ম. মহিউদ্দিন বলেন, আবাসিক হলের ভেতরে বর্জ্য পোড়ানো মোটেও উচিত না। এসব বর্জ্যে এমনসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের মুঠোফোনে কল দিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, বর্জ্য পোড়ানোর বিষয়টি আমরা নিরুৎসাহিত করি।

সম্প্রতি

আরও খবর