নরসিংদীর রায়পুরার গুকলনগর গ্রামে ইট বিছানো সরকারি রাস্তাটি মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তা পুনর্র্নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্ধ দেয় সরকার। রাস্তা পুনর্নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধানে ছিল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। পরিকল্পনা ছিল সোলিং করা রাস্তার পুরনো ইট দিয়ে নতুন আরও একটি রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
কিন্তু সেই রাস্তার সোলিংয়ের প্রায় ১৫ হাজার ইট স্থানীয় ঘর নির্মাণকারীর কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ইউনিয়ন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু রায়পুরা উপজেলার শুকলনগর গ্রামে নয়, এমন অপকর্ম দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটতে দেখা যায়। আর এর সঙ্গে জড়িত থাকেন একশ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তারা একে অপরের যোগসাজশে সরকারি অনেক জিনিস বিক্রি করে দিয়ে পকেট ভারী করেন বলেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের খবরে দেখা যায়।
রায়পুরা উপজেলার শুকলনগর গ্রামে সরকারি রাস্তার ইট তুলে বিক্রি করার কথা স্বীকারও করেছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি। কিন্তু তারা অজুহাত দেখাচ্ছেন যে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে কোনো টাকা নেই বিধায় ইট বিক্রি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলের টাকা জোগাড় কারার জন্য রাস্তার ইট বিক্রি করতে হবেÑ তাদের এমন যুক্তি মেনে নেয়া যায় না।
রাস্তার উন্নয়ন করা বা দেখভাল করাটাই ছিল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তারা তা না করে বরং ইট তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন। এটা দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক নয়। এই কাজের জন্য তারা যে যুক্তি দেখাচ্ছেন, সেটাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। যাদের জনস্বার্থে কাজ করার কথা, তারাই যদি জনস্বার্থবিরোধী কাজ করেন তাহলে নাগরিকরা যাবে কোথায়?
সরকারি ১৫ হাজার ইট বিক্রি হয়ে গেল কিন্তু প্রশাসন জানতেই পারল না কেন সেটা একটা প্রশ্ন। সরকারি রাস্তার ইট এভাবে বিক্রি করে দেয়া যায় কিনা সেটা আমরা জানতে চাইব।
রাধানগর ইউনিয়নের দুজন ইউপি সদস্যের ইট বিক্রির বিষয়টি আমলে নিতে হবে। ঘটনাটি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তার দেয়া আশ্বাস যেন শুধু মুখের কথা হয়ে রইবে না, বাস্তব রূপ পাবে সেটা আমাদের আশা।



