তিন দশকের বেশি সময় আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বে সগিরা মোর্শেদ নামের এক গৃহবধূকে গুলি করে হত্যার মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকার তৃতীয় বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইন আলোচিত এ মামলার রায় দিয়েছেন।
দ-িত দুই আসামি হলেন নিহতের ভাসুরের শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান এবং শ্যুটার মারুফ রেজা। রায় ঘোষণার সময় সব আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা দেওয়ার পর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের হাজতকালীন মেয়াদ সাজা থেকে বাদ যাবে বলে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানিয়েছেন।
অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন সগিরার ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭১), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৫) এবং মন্টু মন্ডল ওরফে মিন্টু। এই তিনজন জামিনে ছিলেন।
আসামিদের মধ্যে কারাগারে থাকা আনাস মাহমুদ ও মারুফ রেজাকে এদিন রায়ের সময় কারাগারে হাজির করা হয়। জামিনে থাকিা বাকি তিন আসামিও আদালতে উপস্থিত হন। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে দুই আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামি মন্টু ম-ল বাদে বাকি দুই আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে যাবে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ সালাম রাজধানীর বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে সারাহাত সালমাকে আনতে যান। যাওয়ার পথে তিনি স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছলে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তিনি। আত্মরক্ষায় একপর্যায়ে সগিরা মোর্শেদ দৌড় দিলে তাকে গুলি করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সগিরা মোর্শেদ মারা যান।
ঘটনার দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর পর গত ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতের জিআর শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এতে বলা হয়, মূলত পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনামাফিক তা বাস্তবায়নের জন্য ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দেওয়া হয়।



