মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পান। ২০২২ সালে নওগাঁর রাণীনগরের ডাকাহারে ৫৯টি ও মালিপুকুরে ৩২টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছিলেন ভূমিহীন ও গৃহহীনরা। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে তাদের মুখে ফুটেছিল হাসি।
কিন্তু সেই হাসি ফিকে হয়ে তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কারণ নির্মাণের দুবছর পেরোতে না পেরোতেই ঘরগুলোর দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। খসে পড়ছে প্লাস্টার। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। তখন ঘরগুলো বাসযোগ্য থাকবে কিনা সেই দুর্ভাবনা পেয়ে বসেছে বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ঘরগুলো মেরামত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ঘরের বাসিন্দারা।
এরকম অভিযোগ দেশের অনেক আশ্রয়ণের ঘরের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। দেখা যায় ঘরগুলো নির্মাণের পর হয় দেয়ালে না হয় মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেয়াল-মেঝে দুই জায়গাতেই। কখনওবা দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগও ওঠে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের নবনির্মিত অনেক ঘরবাড়ি আবার সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার করতেও হচ্ছে। সংস্কার কাজে অর্থও ব্যয় হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ঘরগুলো নির্মাণের এক-দুই বছর যেতে না যেতে আবার সংস্কারের প্রয়োজন কেন হচ্ছে। নির্মাণ করার সময় যে সব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল সেগুলো কি মানসম্মত ছিল? নির্মাণের সময় কি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল। নির্মাণের উপকরণ যদি মানসম্মত হয় এবং নির্মাণের সময় যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় তাহলে এত দ্রুত ঘরগুলোর এমন অবস্থা হতো না।
ঘর নির্মাণে যদি অনিয়ম-দুর্নীতি হয়, তাহলে সে ঘর টেকসই হয় না বেশি দিন। এতে একদিকে বাসিন্দারের দুর্ভোগ বাড়ে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের অর্থও অপচয় হয়।
আশ্রয়ণের ঘরগুলোর ফাটল দেখা দিয়েছে, এ খবর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানেন না বলে দাবি করছেন। তবে তিনি দ্রুত ঘরগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তার আশ্বাস যেন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, তিনি যেন ঘর পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেন, এটা আমরা চাইব।



