Thursday, March 5, 2026
হোমমতামতসম্পাদকীয়নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে জনবলের ঘাটতি দূর করুন

নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে জনবলের ঘাটতি দূর করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাই একমাত্র ভরসা নাইক্ষ্যংছড়ি এবং পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ার মানুষের।

কিন্তু সেখানে নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল। প্রয়োজনের চেয়ে কম লোকবল দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবার কাজ। হাসপাতালে তিনজন মেডিকেল অফিসার ও চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্টস থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন করে। নার্সের পদ ১৮টি। আছেন ৪ জন। পদ থাকলেও হাসপাতালে নেই কোনো ডেন্টাল সার্জন, ফার্মাসিস্ট, টেকনেশিয়ান, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

হাসপাতালে পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসাসেবা নিতে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বিনামূল্যের ওষুধও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এসব অভিযোগের কথা বলেন ভুক্তভোগী রোগীরা।

পাহাড়ি এলাকায় হাসপাতাল করা হয়েছে সেটা একটা ভালো বিষয়। এর ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায়ও উন্নীত করা হয়েছে। তাতে করে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার আওতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগের তুলনায় আরও বেশিসংখ্যক মানুষ সেখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেখানে প্রয়োজনীয় লোকবলের ঘাটতি আছে। শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ে না। যারা স্বাস্থ্যসেবা দেবেন সেই চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় কর্মী হাসপাতালে থাকতে হবে। রোগ নির্ণয়ের জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান দরকার। সেই লোকবলও থাকতে হবে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নিয়মিত ওষুধের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। কিন্তু এর সবকিছুতেই কিছু না কিছু খামতি সেখানে রয়েছে।

তবে এই সমস্যা শুধু নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালেই না। দেশের অন্যান্য জায়গার হাসপাতালেও এই সমস্যা কমবেশি দেখা যায়। সরকারি হাসপাতালগুলোর এসব সম্যস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে। রাতারাতি এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। তবে এসব সমস্যা নিরসনে সরকারের পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনবল সংকটে রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন, সে কথা স্বীকারও করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। জনবল নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই সংকট কেটে যাবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

আমরা বলতে চাই, নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালের জনবল সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে আমলে নিতে হবে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো না হলে সেখানকার জনগণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের চিকিৎসা নিতে শহরে ছুটতে হবে। বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষের পক্ষে শহরে যাওয়া সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর