প্রখ্যাত গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের সংগীত ভুবনে গীতিকার হিসেবে রফিকউজ্জামান বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছেন। তিনি চলচ্চিত্র, আধুনিক, দেশাত্মবোধকসহ সব ধরনের মৌলিক গান লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান চলচ্চিত্রের গান লিখে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা লাভ করেছেন।
গুণী এ গীতিকারের লেখা অসংখ্য গান দেশীয় চলচ্চিত্রের গানের অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। তার গান শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেরও অনেক শিল্পী কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন। বাংলা সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার বরেণ্য এ গীতিকারকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। কর্মজীবনে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশ বেতারে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এখানে চাকরি করেন তিনি। ২০০৪ সালে লন্ডনের চ্যানেল এস-এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পালন করেন। ২০০৭ সালে বৈশাখী টেলিভিশনে অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তিনি ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশে বেতারে নিয়মিত গীতিকার হিসেবে গান লেখা শুরু করেন। তার প্রকাশিত গানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারেরও বেশি। ১৯৭৩ সাল থেকে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্রের জন্য গান লিখছেন। তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের জন্য গান লিখেছেন। গান ছাড়াও মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বেতার, মঞ্চ এবং টেলিভিশনের জন্য অসংখ্য নাটকও রচনা করেছেন।
তার রচিত শ্রোতাপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছেÑ ‘কিছু কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসা চাওয়াটাই ভুল’, ‘সেই রেললাইনের ধারে মেঠোপথটার পারে দাঁড়িয়ে’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ আমার বাসর রাতের পালঙ্ক’, ‘যদি মরণের পরে কেউ প্রশ্ন করে’, ‘আমার মন পাখিটা যা রে উড়ে যায়’, ‘আমার বাউল মনের একতারাটা’,
‘চির অক্ষয় তুমি বাংলাদেশ’, ‘পদ্ম পাতার পানি নয়, দিন যাপনের গ্লানি নয়’, ‘মাঠের সবুজ থেকে সূর্যের লাল’, ‘যেখানে বৃষ্টি কথা বলে’, ‘আমি নদীর মতন বয়ে বয়ে’, ‘শুক পাখিরে, পিঞ্জিরা তোর খুলে দিলাম আজ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার শত্রু বলে গণ্য হলাম’, ‘আকাশের সব তারা ঝরে যাবে’ ইত্যাদি।



