হুমকি-ধামকির অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরী। জামিন পাওয়ার পর হাসিমুখে অভিনেত্রী মেহজাবীন বিজয়ের চিহ্ন দেখাতে দেখাতে বেরিয়ে যান।
রোববার, (১৬ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় শুনানি শেষে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আফরোজা হক তানিয়ার আদালত এ আদেশ দেয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৩ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। আজ (রোববার) সন্ধ্যায় আসামিরা আদালতে এসে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় জবাব দাখিলের জন্য রয়েছে।
এর আগে, গত ৩ নভেম্বর অভিনেত্রী মেহজাবিন ও তার ভাইয়ের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা ওইদিন আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আফরোজা হক তানিয়া তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আজকে (রোববার) তাদের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সংবাদ মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়। এরপর তারা সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করে জামিনে আবেদন করেন।
বাদীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাদীর সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করে। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন।
আরও বলা হয়, ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন, ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না,’ তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলবো। এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে মামলাটি দায়ের করেন।



