‘দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ চানখাঁরপুল’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি আমাদের সময়ের একটি নির্মম সামাজিক দলিল। পরিচালক মনিরুল হক আকাশ এখানে আয়নার মতো করে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের তথাকথিত সভ্য সমাজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বস্তিকর বাস্তবতা। হক সাহেবের এই আয়নায় যা দেখা যায়, তার সবই জীবনের খুব কাছের রাজনীতি, ক্ষমতা, ভণ্ডামি আর ভেঙে পড়া স্বপ্নের গল্প। হাস্যরস ও ব্যঙ্গের আড়ালে ছবিটি দেখায় শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ক্ষমতাবানদের কাছে শিক্ষকদের আত্মসমর্পণ এবং ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, মাদক ও দখলদারির বিস্তার। এখানে শিক্ষার্থী কেবল একটি ব্যবহৃত চরিত্র, যার স্বপ্ন বারবার পিষে যায় ক্ষমতার চাকার নিচে। ছবিতে ফুটে ওঠে বিভাজনের রাজনীতি যেখানে দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বড় হয়ে দাঁড়ায়। দৃশ্যায়নে ছবিটি আপসহীন। কোনো তোষামোদ নেই, নেই ভীরু
রূপক। বরং সাহসের সঙ্গে প্রশ্ন ছোড়া হয়েছে শাসক, শিক্ষক ও ব্যবস্থার দিকে। তাবিবের গান ছবিতে যুক্ত করেছে কবিতার ছন্দ ও বিদ্রোহের আগুন- কখনও মায়ের কান্না, কখনও নিঃশব্দ আর্তচিৎকার হয়ে বাজে দর্শকের মনে। রাজনৈতিক স্যাটায়ার ঘরানায় ছবিটি সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজা দেশে’ বা তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’র ধারার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যেখানে রূপকের আড়ালে নির্মম সত্য বলা হয়। আকাশ হক নিজের দেখা বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই সিনেমার ভাষায় রূপ দিয়েছেন, যা ছবিটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই সাহসী চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানারমায় সমালোচকদের বিচারে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে এবং অর্জন করেছে ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি, যা নিঃসন্দেহে দর্শককে ভাবাবে, অস্বস্তিতে ফেলবে এবং প্রশ্ন করতে বাধ্য করবে।



