২০২৫ সালটি ঢাকাই সিনেমার জন্য ছিল এক বৈচিত্র্যময় ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে সফল বছর। সারা বছরজুড়ে বেশ কিছু নতুন এবং পুরনো নির্মাতার ছবি মুক্তি পেয়েছে, যেখানে দর্শকরা নানা ঘরানার সিনেমা উপভোগ করেছেন। বিশেষ করে ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো বক্স অফিসে ভালো সাফল্য পেয়েছে, এবং এই বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে কিছু ছবি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। এই বছর প্রায় ৪৬টি বাংলা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর বক্স অফিসে চমৎকার সাফল্য অর্জন করেছে। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি, এই সিনেমাগুলোর প্রতিটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং নির্মাণশৈলী দর্শকদের মনে প্রভাব ফেলেছে। ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বরবাদ’, ‘জংলি’, ‘চক্কর’, ‘দাগী’, ‘তান্ডব’ এবং ‘উৎসব’ চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে এবং দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছে। এ বছরের মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফেরেশতা’, ‘দেলুপি’, এবং অন্যান্য সিনেমাগুলো চলচ্চিত্র প্রেমীদের মাঝে আলোচনায় ছিল। এই সিনেমাগুলোর মধ্যে এমন কিছু ছিল যা নতুন নির্মাতাদের কল্পনা এবং স্টাইলের পরিচয় দিয়েছে, যারা তাদের প্রথম সিনেমা নিয়েই বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছেন। যেমন, ‘বরবাদ’ সিনেমার পরিচালক তার নতুনত্ব এবং সাহসী কনসেপ্টের মাধ্যমে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, একইভাবে ‘জংলি’ এবং ‘চক্কর’ সিনেমা
দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে তাদের ভিন্ন ধরনের থ্রিলার প্লট এবং অডিয়েন্সকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে।২০২৫ সালে কিছু তারকা অভিনেত্রী ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে আলোচনায় এসেছেন। জয়া আহসান, বাঁধন, মেহজাবীন সহ অন্যান্য অভিনেত্রীরা তাদের অভিনয় দক্ষতা এবং নতুন ধরনের চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন। বিশেষ করে, জয়া আহসান তার অভিনয় ক্ষমতার নতুন স্তরে পৌঁছেছেন, যেখানে তার চরিত্রগুলো ছিল বাস্তববাদী এবং গভীর। এছাড়া, ঢাকাই সিনেমার পপুলার তারকা শাকিব খান তাঁর ‘একেএ’ ওয়েব সিরিজ এবং নতুন সিনেমা নিয়ে অনেক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। এই ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে তিনি নতুন এক ভিন্ন ধাঁচের চরিত্রে দর্শকদের সামনে আসেন, যা তাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে, জাহিদ হাসান, সাবিলা, তুষি এবং আরও বেশ কিছু নতুন মুখের উপস্থিতি এই বছরটি ঢাকাই সিনেমায় নতুনত্ব এবং বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক হয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর মধ্যে অ্যাকশন, থ্রিলার, ড্রামা, কমেডি সহ নানা ধরনের ধরণ ছিল। এই বৈচিত্র্যময় সিনেমাগুলো দর্শকদের নানা ধরনের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে। অ্যাকশন ফিল্ম যেমন ‘দাগী’ এবং ‘তান্ডব’ দর্শকদের উত্তেজনা এবং থ্রিলের মিশেলে বিনোদন দিয়েছে, আবার ‘উৎসব’ এবং ‘চক্কর’ মতো সিনেমাগুলো কমেডি এবং মজাদার গল্পের মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেছে।
এছাড়া, কিছু ড্রামা ও থ্রিলার সিনেমা যেমন ‘ফেরেশতা’ এবং ‘দেলুপি’ গল্পের গভীরতা এবং চরিত্রের উন্নতিতে সফল হয়েছে। এই বছরটি সিনেমার বিচিত্র ধরণে ভরা ছিল, যা নিশ্চিতভাবেই সিনেমার বিশ্বে ঢাকাই ছবির ভবিষ্যত সম্ভাবনা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ দর্শকপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৫ সালটি ছিল বাংলা সিনেমার জন্য এক ব্যস্ত এবং বৈচিত্র্যময় বছর। এই বছর বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য এবং শিল্পমান— উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে। বিশেষ করে, নতুন নির্মাতাদের সৃজনশীলতা, অভিজ্ঞ অভিনেতাদের শক্তিশালী অভিনয় এবং নানা ধরনের গল্পের মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমা তার পূর্বের সীমাবদ্ধতাকে ভেঙে নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে। এ বছরের সিনেমাগুলোর মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমা প্রমাণ করেছে যে, এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সফলতার দিকে মনোযোগী নয়, বরং শিল্প ও সৃজনশীলতার দিক থেকেও এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এটি বছরের পর বছর ধরে ঢাকাই সিনেমার ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছে।



