শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশমণ্ডপে বিদায়ের সুর, বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

মণ্ডপে বিদায়ের সুর, বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী তিথিতে পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হলেও, দেবী দুর্গার বিদায়ের সুরও বেজে ওঠে বিসর্জনের একদিন আগেই। বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে পূজা, দশমীতে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।”

বুধবার,(০১ অক্টোবর ২০২৫) বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে নবমীর তিথিতে সন্ধিপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর বন্দনা চলে ভক্তদের আরাধানায়। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, শঙ্খনাদ আর কাসর ঘণ্টায় মুখরিত হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। রোববার থেকে দেশজুড়ে ৩৩ হাজারেরও বেশি মন্দির-মণ্ডপে উৎসবে মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “নবমীতে এসেই পূজার ষোলোকলা পূর্ণ হয় এবং বিদায়ের সুর বাজে। দশমীতে বিদায় জানানো হয়। নবমী তিথি শুরুই হয় মূলত সন্ধিপূজা দিয়ে। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিটজুড়ে এই সন্ধিপূজা হয়। ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে।”

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সকাল ৯টা নাগাদ পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং ১১টার পর অঞ্জলি দেন ভক্তরা। নবমীর সন্ধ্যায় হয় দেবীদুর্গার ‘মহাআরতি’। সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দেবীকে অঞ্জলি দিতে আসেন ভক্তরা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল। ষষ্ঠী তিথিতে রোববার বেলতলায় দেবীর অধিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়। হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা- এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সপ্তমীতে পূজা দিলে সপ্তজনমের, মানে সাত জনমের পাপ মোচন হয়ে যায়। আর অষ্টমীতে ‘অষ্টমঙ্গল লাভ’ করা হয়। নবমীতে ‘পূর্ণপূজা’র পর দশমীতে দেবী ‘অপরাজিতা’ হন। দশমীতে দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনাও জেগে ওঠে।”

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হঙো গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়। দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলায় চড়ে। আর দোলায় দেবীর গমনকে মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত ধরা হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দশভূজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধরায় আসেন। সন্তানদের নিয়ে কয়েকটি দিন পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। ত্রেতাযুগে ভগবান রাম তার স্ত্রী সীতাকে উদ্ধার করতে দেবী দুর্গার অকালবোধন করেন। ব্রহ্মার নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গার সাহায্যে রাবণ বধ করে সীতাকে উদ্ধার করেন তিনি। দেবীর সেই আগমণের সময়ই দুর্গোৎসব।

বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন সকালে হবে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা ও পূজান্তে দর্পণ বিসর্জন। দুপুর ১২টায় থাকবে স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিকেল ৩টায় বের হবে বিজয়া শোভাযাত্রা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের উপদেষ্টা পুরোহিত প্রণব চক্রবর্তী জানান, “দশমীতে বিহিত পূজার সাথে আরো কিছু সংযুক্তি রয়েছে, যেমন সিঁদুর খেলা, মাকে মিষ্টি দান, শোভাযাত্রা এবং প্রতিমা বিসর্জন। বিজয়া দশমীতে একদিকে ‘আনন্দময়ী মাকে’ বিদায় জানানোর পালা, আবার আসন্ন বছর ‘মা’ আবার আসবেন সেই অপেক্ষার শুরু। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।”

সম্প্রতি

আরও খবর