শুক্রবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশউচ্ছেদের পর ফের অবৈধ ব্যবসার কবলে বরিশালের বেলস পার্ক

উচ্ছেদের পর ফের অবৈধ ব্যবসার কবলে বরিশালের বেলস পার্ক

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, বরিশাল

সম্পর্কিত সংবাদ

দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থানের একমাত্র পথ বন্ধ করে তাদের পরিবার সৎভাবে পরিচালনার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। অপসারণের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বরিশাল মহানগরীর অক্সিজেন কারখানা হিসেবে গণ্য হওয়া বেলস্ পার্কের অবৈধ স্থাপনাসমূহ আবার নতুন করে ফিরে আসছে। এমনকি এবার শুধু ফিরে আসাই নয় মূল পার্কটির অভ্যন্তরে খেলার মাঠেও এখন ভ্যানগাড়ি নিয়ে দোকান বসতে শুরু করেছে। পার্কের ওয়াকওয়েসহ অভ্যন্তরে প্রবেশের সবস্থান আটকে দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রাত্রিকালীন পথ খাবারের দোকান বসেছে।

নগর প্রশাসকের নির্দেশে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল সিটি করপোরেশন রাতভর অভিযান চালিয়ে মহানগরীর বেলস্ পার্কসহ সন্নিহিত প্রবেশ পথের সব পথ খাবারের দোকান সহ অস্থায়ী স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ করে। নগরভবনের এ পদক্ষেপকে নগরীর সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানালেও পরদিনই উচ্ছেদকৃত দোকান মালিকরা নগর প্রশাসকের বাসভবন ঘেরাও করে তাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়ার বা বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানাতে থাকে।

নগর প্রশাসক প্রথমে অনড় মনোভাব প্রকাশ করলেও পরে বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান বসানোর অনুমোদন দেন। এমনকি এ লক্ষ্যে পথ খাবারের দোকানের জন্য নগরভবন থেকে নির্ধারিত নকশার বাইরে কেউ দোকান বসাতে পারবে না বলে জানালেও এখন আর সেসব নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছে না কেউ। পুরো বেলস্ পার্ক ঘিরে আবার পথ খাবারের দোকান পার্কটিকে ঘিরে ফেলেছে। এমনভাবে আগলে ধরেছে যে, ‘নগরীর অক্সিজেন কারখানা’ খ্যাত বেলস্ পার্কে এখন কারও প্রবেশ করাই দায় হয়ে ওঠেছে।

নতুন করে অস্থায়ী পথ খাবারের দোকানপাট স্থাপনের পর এখন পার্কের অভ্যন্তরেও ভ্যানগাড়িতে করে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমনই যে, এখানে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এমনকি এসব পথ খাবারের দোকানের বর্জ্যে পুরো এলাকাসহ পাশের লেকটির পরিবেশও বিপন্ন হয়ে ওঠছে। ইতোপূর্বে পথ খাবারের দোকানের গরম পানির কারণে পার্কটির উত্তরপ্রান্তে শতবর্ষী একটি রেইনট্রি গাছ মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। বেশ কয়েকবারই পাশের বিশাল লেকটির পানি দুর্গন্ধময় হয়ে ওঠেছিল। তবে তাদের উচ্ছেদের পরে এখন জীবন-জীবিকার কথা বলে পুনরায় অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসন করতে গিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বেলস্ পার্কটির গলাটিপে ধরা হচ্ছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে তৎকালীন বাকেরগঞ্জ জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ‘মি. বেল’ বগুড়া-আলেকান্দা মৌজার চাঁদমারী এলাকার প্রায় ৯ একর জমির ওপর একটি মুক্ত উদ্যান, খেলাধুলাসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মাঠ নির্মাণ করেন। মাঠটির দুদিক থেকে মাটি কেটে নিচু এলাকা উঁচু করায় লেক সৃষ্টি হয়। তখন তার নাম অনুসারেই উদ্যানটির নামকরণ হয় ‘বেলস্ পার্ক’। তবে গণপূর্ত অধিদপ্তর এই পার্কটির মালিকানাসহ তার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকলেও বছর কয়েক আগে উদ্যানটির দুইদিকে জেলা প্রশাসন থেকে নকশাখচিত বিশাল ভূমির মালিক ‘বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ ময়দানের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে জেলা প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই। এক সময়ে এই মাঠটিই ব্যবহৃত হতো ফুটবল খেলার মাঠ হিসেবে। আবার জাতীয় নেতারা বরিশালে এসে এখানেই জনসভা করতেন।

২০০৪ সালে সিটি মেয়র মুজিবুর রহমান সারোয়ারের উদ্যোগে

সরকারি প্রায় ১ কোটি টাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটির চারধারে ওয়াকওয়ে, বসার বেঞ্চি এবং ছাতাসহ শৌচাগার ও বিশ্রামাগার নির্মাণ ছাড়াও দৃষ্টিনন্দন বাতি লাগানো হয়। পাশাপাশি শোভাবর্ধনের জন্য পুরো মাঠের ওয়াকওয়ের মাঝে এবং চারধারে গাছও লাগানো হয়েছিল। সে থেকে উদ্যানটির পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে সিটি করপোরেশন। প্রতিদিনই নগরীর বিপুলসংখ্যক মানুষ এ উদ্যানে সকাল-বিকেল হাঁটতে ও শ্রান্তি বিনোদনে আসা শুরু করেন। তবে ১/১১ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে অজ্ঞাত কারণে এখান থেকে সব ‘গার্ডেন লাইট’ খুলে নেয়ায় ভুতুরে পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাবে সান্ধ্যকালীন ভ্রমণকারীগণ এ উদ্যান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন।

২০১১ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন সরকারি তহবিল সংগ্রহ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যানটিতে দ্বিতীয় ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ পূর্বপাশের্^ শেখ মুজিবর রহমানের মুরাল স্থাপন করেন। পাশাপাশি উদ্যানটির পূর্বপাশের নালাটি সংস্কার করে সেখানে শাপলার আবাদ ছাড়াও সংলগ্ন বাঁধ রোডে পাকা ফুটপাত নির্মাণ ও পাশে সোনালু গাছ লাগানো হয়। যা এখনও নগরবাসীর চোখ জুড়ায়।

সম্প্রতি

আরও খবর