বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশসড়কের কাজ দেখতে গিয়ে যানজটে আটকা উপদেষ্টা, হেঁটে ও মোটরসাইকেলে পরিদর্শন

সড়কের কাজ দেখতে গিয়ে যানজটে আটকা উপদেষ্টা, হেঁটে ও মোটরসাইকেলে পরিদর্শন

মোহাম্মদ সাব্বির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সম্পর্কিত সংবাদ

ঢাকা থেকে গেছেন রেলপথে। ট্রেন থেকে নেমেছেন ভৈরববাজার স্টেশনে। তাই পোহাতে হয়নি কোনো ভোগান্তি। কিন্তু তারপরই যখন গাড়িতে চড়ে সড়কে উঠলেন, পড়লেন ঝামেলায়। যানজটে আটকা থাকতে হয় কয়েক ঘণ্টা। পরে উদ্ধার মোটরসাইকেলে এবং পায়ে হেঁটে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

প্রায় আট বছর আগে শুরু হয়েছে ৫০ কিলোমিটার সড়কের কাজ

খানাখন্দে ভরা সড়কে ধীরগতির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়

উপদেষ্টার সফর, তড়িঘড়ি মেরামত

যানজটের জন্য ‘ট্রাফিক বিভাগ দায়ী’

ঢাকার ১২ কর্মকর্তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত চার লেন মহাসড়ক নির্মাণ কাজের ধীরগতি ও সড়কের বেহাল দশা দেখতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন সড়ক, জ্বালানি ও রেল উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কমলাপুর থেকে মহানগর প্রভাতী ট্রেনে ভৈরববাজার স্টেশনে পৌঁছেন উপদেষ্টা। তারপর সড়কপথে রওনা হন। আশুগঞ্জ পৌঁছানোর পরই শুরু হয় ভয়াবহ যানজট। উপদেষ্টার গাড়িবহর দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে মহাসড়কে। বুধবার,(০৮ অক্টোবর ২০২৫) সকালে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শনে এসে তিনি যানজটে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকা পড়েন। পরে কিছুটা পথ হেঁটে এবং মোটরসাইকেলে চড়ে বিশ্বরোড পৌঁছান তিনি।

এ সময় স্থানীয়রা বছরের পর বছর ধরে চলা সড়ক ‘উন্নয়নের’ কাজের কারণে যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তা তুলে ধরেন। খানাখন্দে ভরা সড়কে ধীরগতির কারণে এ পথে যাতায়াতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয়।

উপদেষ্টার সফর:

তড়িঘড়ি মেরামত

উপদেষ্টার সফরের খবর জানাজানির পর গতকাল মঙ্গলবার থেকে সড়কটি কিছুটা যান চলাচলের উপযোগী করার তৎপরতা শুরু হয়। বিশ্বরোড গোলচত্বর থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের খানাখন্দে ইট-বালুর অস্থায়ী সংস্কার কাজ চলে। কিন্তু তাতে উপদেষ্টা রেহাই পাননি যানজটের ভোগান্তি থেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড হয়ে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কের প্রাথমিক কাজ শুরু হয় প্রায় আট বছর আগে। পাঁচ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি করছে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড, ভারতীয় ঋণ ও দেশীয় অর্থে।

গত বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন চলে যান। কয়েকমাস পর তারা ফিরে এলেও নির্মাণ কাজের পণ্য চুরি হওয়ায় কাজ আগের গতিতে হয়নি। তবে জরুরি কিছু মেরামতকাজ করা হয়েছে।

প্রকল্পে তিনটি প্যাকেজের মধ্যে ৩ নম্বর প্যাকেজ বাতিল করা হয়েছে। এতে তন্তর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১.৩০ কিলোমিটার চার লেন সড়ক অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে ‘প্যাকেজ-১’ (আশুগঞ্জ-সরাইল) ও ‘প্যাকেজ-২’ (সরাইল-তন্তর) এর কাজ চলছে। দুই অংশের ২৭ কিলোমিটারের কাজের অগ্রগতি এখনও অর্ধেকেরও কম। সম্প্রতি বাড়তি ১৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

*যানজটের জন্য ‘ট্রাফিক বিভাগ দায়ী’

পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, সেটা ট্রাফিক বিভাগের গাফিলতির কারণে। একদিকে গাড়ি চলছে, অন্যদিকে বন্ধ থাকছে। কোথাও অতিরিক্ত গাড়ি ঢুকে চার লেন হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করবেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সবাই শুধু রাস্তা চায়। কিন্তু রাস্তা হলে বাড়ি, শিল্প কারখানা, এমনকি কবর দেয়ার জায়গা থাকবে না। এই সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক থাকলে এতো যানজট হতো না। হয়তো আমার আধঘণ্টা সময় বেশি লাগতো।’

*জরুরি পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা*

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, ঊর্ধ্বতন ১২ জন কর্মকর্তাকে ঢাকায় বসে না থেকে বিশ্বরোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি এ বিষয়ে অবহেলা করেন বা অফিসে না পাওয়া যায়, তাহলে তাদের সাসপেন্ড (বহিষ্কার) করা হবে।

উপদেষ্টা আরও যেসব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন সেগুলো হলো- বর্ষার সময় যাতে চলাচলে সমস্যা না হয়, খানাখন্দে ইট-বালু দিয়ে অস্থায়ী সংস্কার, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিভাইডার স্থাপন, যানজট কমাতে বিকল্প রেল ও নদীপথের ব্যবহার বাড়ানো, বিশ্বরোড এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা।

সম্প্রতি

আরও খবর