রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশগোড়া থেকে মাটি সরে হেলে পড়ল সেতু

গোড়া থেকে মাটি সরে হেলে পড়ল সেতু

প্রতিনিধি, লৌহজং, (মুন্সীগঞ্জ)

সম্পর্কিত সংবাদ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের দাশপাড়া সেতুটি চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেতুর পশ্চিম পাশের গোড়ার মাটি সরে যেতে শুরু করে। প্রায় ১৫ দিন পর সেই অংশ ধসে গিয়ে সেতুটি পশ্চিম দিকে হেলে পড়ে। এর ফলে স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ার বিষয়টি যদি সময়মতো জনপ্রতিনিধিরা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতেন, তাহলে হয়তো সেতুটি ধসে পড়া রোধ করা যেত।

দাশপাড়ার সেতুটি দক্ষিণ কলমা গ্রামে অবস্থিত। এটি হেলে পড়ায় কলমা ইউনিয়নের বিধুয়াইল, পাঁচনখোলা, দাশপাড়া ও পূর্ব কলমা গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। কলমা-পাঠানবাড়ী খালের ওপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ হাটবাজার, স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতেন। আগে সেতুটি দিয়ে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক ও পিকআপ চলাচল করত। বর্তমানে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উত্তর পাশে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে গত সোমবার সাঁকোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে এটি দিয়ে শুধুমাত্র হেঁটে পার হওয়া যায়।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, মাটি সরে যাওয়ার পর বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি। মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেতুর প্রায় ৬০ ফুট অংশ দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে। এর ফলে এলাকাবাসীর চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানান, সেতু হেলে পড়ার সময় পশ্চিম পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটিও হেলে যায়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত তা অপসারণ করে। উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে কলমা-পাঠানবাড়ী খালের ওপর ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৮০ ফুট দীর্ঘ দাশপাড়া সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১৪ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা যায়, দাশপাড়ার পূর্ব পাশে দক্ষিণ বিধুয়াইল জামে মসজিদের নির্মাণকাজ চলছে। শ্রমিকরা হেলে পড়া সেতুর রেলিং ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইট, বালু, সিমেন্ট ও রড মাথায় করে পার হচ্ছেন। সত্তরোর্ধ্ব বিলকিস বেগম বলেন, সেতু হেলে যাওয়ায় প্রতিদিন বাজারে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

বিধুয়াইল গ্রামের রতন শেখ বলেন, সেতুটি হেলে পড়ায় হাটবাজারে যাওয়া-আসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা-নেওয়ায় ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, সেতুটি যেভাবে হেলে পড়েছে, তা সংস্কার করার সুযোগ নেই। এটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নেছার উদ্দিন বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হেলে পড়া সেতু অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্ষা শেষে পানি নেমে গেলে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর