জয়পুরহাটে ডায়রিয়ার প্রকোপ কমছে না। ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ৮দিনে ৫শ’৫৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বয়স্ক ও শিশুর রোগীর সংখ্যাই বেশি। ডায়রিয়া ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীর বাড়ি জয়পুরহাট পৌরসভার বাসিন্দা। রোগীর স্বজনরা দাবি করেন, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ড্রেনে ময়লা-আবর্জনার জমাট বাঁধে এর ফলে পৌর সরবরাহ কৃত পানির লাইনে ময়লা পানি প্রবেশের কারণেই আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়ায়। আবার কেউ কেউ বলছেন, পূজা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় খোলা খাবার খাওয়ার কারণে এমন অবস্থা হচ্ছে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৮দিনে প্রায় ৬শ জন ভর্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল ভর্তি হয়েছে ৬০ জন। হঠাৎ ডায়রিয়া প্রকব বাড়ায় রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ো দেখা গেছে, ওয়ার্ডে ঢুকেই দেখা যায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা স্থান সংকুলান না হওয়ায় করিডোর ও মেঝেতে বিছানা পেতে গদা-গদি করে শুয়ে আছে রোগীরা। সেখানেই রোগীদের স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। জয়পুরহাট পৌরসভার থানাপাড়া রোগী বেলাল বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রীর বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গেহাসপাতালে নিয়ে আসেন। বেড না থাকায় রোগীকে নিয়ে বারান্দায় বিছানা পেতে আছি।
রোগী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে ড্রেনের ময়লা পানি যুক্ত হয়ে দূষিত হয়। ওই পানি পান করেই আমার এ অবস্থা। পৌরসভার বদরউদ্দিন রোডের বাসিন্দা ওলিউল্লিহা বলেন, প্রথমে বমি বমি ভাব এর পর পাতলা পায়খানা শুরু হলে তাৎক্ষনিক হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৪দিন পর পায়খানা নিয়ন্ত্রনে আসে কিন্তু শরীর খুব দুর্বল হাত-পা টেনে ধরছে। ১ সপ্তাহ হচ্ছে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারি নি। পাঁচবিবির বাগজানা গ্রামের ভর্তি রোগী নুপুর বলেন, পূজা মেলার মিষ্টান্ন খাওয়ার পর থেকে তার মেয়ের এ অবস্থা। প্রাথমিক ভাবে গ্রাম্য চিকিৎসা নেওয়ার পরও পায়খানা ও বমি বন্ধ না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলীর গ্রামের সুমন বলেন, আমার ছেলে ডায়রিয়ার সাথে বমি করছে, কী কারনে তা সঠিক বলতে পারছিনা। ধীরে ধীরে বেশি হওয়া কারণে আমি ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি। জয়পুরহাট সদর হসপিটালের কর্মরত নার্স জান্নাতুন বলেন, হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা এতো বেশি এটা আমরা এখনো বুঝতে পারছিনা। তবে ইতিপূর্বে পৌরসভার পানির লাইনে লিকেজ এর কারণেই অনেক রোগীই হঠাৎ করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। হাসপাতালের সহকারী চিকিৎসক মো. হারিছ বলেন, ৮দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। অধিকাংশ রোগীই জয়পুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার। রোগীরা অনেকেই পৌরসভার সরবরাহ পানিকে দায়ী করছেন। পরীক্ষা করলেই বিষয়টি জানা যাবে। পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগের পর আক্রান্তপৃথক তিনটি এলাকা থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়া ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এছাড়া পানির কারণে ডায়রিয়া হলে গোটা পৌরসভার বাসিন্দা আক্রান্ত হত। অভিযোগ সঠিক নয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, ৮দিন ধরেই হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ অনেক বেশি। পৌরসভার সরবরাহ পানি ও উন্মুক্ত খাবারের কারণেও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শুক্রবার-শনিবার সকাল পর্যন্ত ৭০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমান যে পরিমান রোগী ভালো হয়ে তার থেকে বেশিই ভর্তি হচ্ছে। এ ডায়রিয়া রোগীর মেয়াদ ৫ দিন। এরপর স্বাভাবিক হচ্ছে। চিকিৎসা সেবার কোন রকম সমস্যা নেই। জয়পুরহাট জেলার সিভিল সার্জন আল মামুন বলেন, ডায়রিয়া সাধারণত একটি পানিবাহিত রোগ, পানি অথবা ভেজাল এবং খোলা খাবার থেকেই ছড়ায়। ঘটনাটি জানার পর জনসচেতনার জন্যই সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডায়রিয়া রোগী সবচেয়ে বেশি জয়পুরহাট পৌরসভায়, পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শনিবার পর্যন্ত ২৫জন, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
জয়পুরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোছাঃ উম্মে রোমান খান জনি জানান, অভিযোগের পর আক্রান্ত তিনটি স্পট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়া জোনাল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে ত্রুটি পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য যেন হুমকীর মুখে না পড়ে এ জনসচেতনাতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং করা সহ আমাদের তৎপরা অব্যাহত রয়েছে।



