সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশতিন বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ

তিন বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইলের আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, টাঙ্গাইল

সম্পর্কিত সংবাদ

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদারের গাফিলতিতে প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া সড়কের কাজ। এতে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে এই আঞ্চলিক সড়কটিতে চলাচলকারী কয়েক লাখ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রহস্যজনক কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করছেন না।

চরম ভোগান্তিতে কয়েক লাখ মানুষ ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার অযুহাত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্তদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে: সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ টাঙ্গাইল অংশে টাঙ্গাইল- দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের আওতায় ২৪.৬৫০ কি.মি. অংশে রিজিড প্রেভমেন্ট ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এতে টাঙ্গাইল অংশে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ২৯৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের কাজ পায় আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ও এনডিই নামের দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গত বছরের ৩০ জুন ৫টি প্যাকেজের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরমধ্যে গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় প্যাকেজ ১ ও প্যাকেজ ২-এর কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। তবে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ৫-এর অন্তর্ভুক্ত ২ টি ব্রিজ ও ২ টি কালভার্টের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি দু’টি প্যাকেজ ৩ ও ৪-এর কাজ করছে এনডিই।

এরমধ্যে আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ ১-এর অধীনে ৬ কি.মি. এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ৮.৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। প্যাকেজ ২-এ ৬ কি.মি.-এর বিপরীতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২৯.৭৭ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ১৯ কোটি ৮১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। প্যাকেজ ৫-এ ২টি ব্রিজ ও ২টি কালভার্টের বিপরীতে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। কাজ সম্পন্ন করেছে ২.২১ শতাংশ। এর বিপরীতে বিল উত্তোলন করেছে ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। প্রকল্পটি গত ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় শেষ করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সময় বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে কোনো আবেদন জমা করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি। তবে এনডিই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২টির একটি প্যাকেজ ৩-এর ৯২ শতাংশ শেষ করেছে। বাকি প্যাকেজ ৪-এর ৬৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বেশিরভাগ অংশে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সড়কের এমন অবস্থা একটু বৃষ্টি হলেই যাওয়ার উপায় নেই। না যায় হাটা, না চালানো যায় রিকশা। যে কামাই করি তার বেশিরভাগ রিকশা মেরামত করতেই চইলা যায়। সিএনজি চালক শাহ আলম বলেন, উন্নয়নের নামে ভোগান্তি শুরু হইছে। কষ্ট লাঘবের জন্য সড়কের উন্নয়ন অথচ কষ্ট বেড়ে গেল। লাভ হইলো কি? স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তো নাই। তাহলে ভোগান্তি লাঘব হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তদন্ত করার দাবি জানাই।

আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মনোনীত সাব ঠিকাদারের প্রজেক্ট ম্যানেজার আব্দুল মান্নান বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রথমে যে সাব ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু করে তাদের অপারগতায় দীর্ঘদিন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আমরা উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মনোনীত সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজ শুরু করি। ব্রিজ নির্মাণের সময় আছে। নির্দিষ্ট সময়েই তা শেষ হবে। রাস্তার কাজ শেষ করতে ব্যাংক জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি, আমাদের প্রতিষ্ঠান দ্রুতই ব্যাংক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে। তাছাড়া নকশায় রাস্তা অন্তর্ভুক্ত জমির মালিকগণ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বিলম্ব হওয়া ও জমি অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ না করায় কাজের গতি কমেছে। তবে দ্রুতই সব সমস্যা সমাধানপূর্বক প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আইসিসিএল-র‌্যাব-আরসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ (প্যাকেজ ১, প্যাকেজ ২ ও প্যাকেজ ৫) গাফিলতির কারণে গত কয়েক মাস যাবৎ কাজটি শেষ করার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। দাপ্তরিক তাগিদ ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। তবুও কাজটি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাজের চুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তা জামানত এর মেয়াদও শেষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন নিরাপত্তা জামানত দাখিল না করায় সময় বৃদ্ধির আবেদন গ্রহণ সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বলেন, গত বছরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাদেরকে গত ৪ ও ১০ মার্চে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পিপিআর ২০০৮ মোতাবেক চুক্তি বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশসহ একাধিক নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত ২৩ জুন স্টিয়ারিং কমিটির সভায় ওই সড়কের বিষয়ে সচিবকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনেশন করা হবে। পরবর্তীতে তাদের লাইন্সেস হ্যাম্পার করা হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর