মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশ‘বৈষম্যের শিকার’ বিসিএস ২৫ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দাবি

‘বৈষম্যের শিকার’ বিসিএস ২৫ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দাবি

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সম্পর্কিত সংবাদ

‘প্রশাসন ক্যাডার ব্যতিত বৈষম্যের শিকার’ বিসিএস ২৫ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও সুবিধা দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি এবং ঢাকার ৭ কলেজ নিয়ে অনুমান নির্ভর কোর্স চালু না করার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সীমাহীন কর্র্তৃত্ব পরায়ণ মনোভাব সিভিল সার্ভিসের অভ্যন্তরে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে এবং একটি গণমুখী, সেবাধর্মী, জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

শনিবার,(২৫ অক্টোবর ২০২৫) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বৈষম্য বিরোধী অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডার সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক কৃষিবিদ আহমেদ আলী চৌধুরী ইকবাল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তাদের বঞ্চনা লাঘবের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত ও প্রয়াত মিলে প্রায় ৭৭৮ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। অথচ বাকি ২৫টি ক্যাডারের বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত মাত্র ৭২ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেয়া হয়।

যাচাই-বাছাইয়ের নামে প্রকৃতপক্ষে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অধিকন্তু, অবসরপ্রাপ্ত ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ভূতপেক্ষ পদোন্নতির আদেশেও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

এ সময় ২৫ ক্যাডারের বঞ্চিত সব কর্মকর্তার আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনা এবং প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো ভূতাপেক্ষ বেতন ভাতাসহ সব আর্থিক সুবিধা প্রদানের দাবি জানান অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশকে আড়াল করে ‘অত্যন্ত কম গুরুত্বপূর্ণ ও অযৌক্তিক’ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে জুলাই সনদকে দুর্বল করা হয়েছে অভিযোগ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলেন, এর একটি হলো- সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য তিনটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন। ‘সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ); সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) ও সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য)’ এবং অন্যটি হলো- হিসাব বিভাগ থেকে নিরীক্ষা বিভাগ আলাদাকরণ। যদি হিসাব বিভাগকে নিরীক্ষা বিভাগ থেকে পৃথক করা হয়, তবে প্রি-অডিট কার্যক্রম বিলুপ্ত হবে, যা আর্থিক জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবে।

লিখিত বক্তবে বলা হয়, মেধা ভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গঠনে উপসচিব পদে কোটা বাতিল করে সব ক্যাডার থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে অনেকেই। কিন্তু জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পর্যায়ের মোট পদের প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০% এবং অবশিষ্ট ২৫ ক্যাডারের জন্য ৫০% ভাগ পদ রাখার সুপারিশ করেছে, যা জুলাই বিপ্লবের সাথে সাংঘর্ষিক। জুলাই সনদেও এ বিষয়ের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঢাকার ৭ কলেজ নিয়ে নতুন সংকট

অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডার কর্মকর্তারা বলেন, ঢাকা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সাতটি কলেজ নিয়ে শিক্ষাখাতে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। দেশসেরা কলেজগুলো বন্ধ করে অনুমান নির্ভর বা পরীক্ষামূলক কোর্স চালু করা সঠিক সিন্ধান্ত নয়।

এ জন্য শিক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের আলোকে এবং অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও তারা অভিমত দেন।

তারা বলেন, ঢাকার সাতটি কলেজসহ সারাদেশের সব কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। কোনো ধরনের স্টাডি ছাড়াই কেবলমাত্র ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ২০১৭ সালে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকরা বলেন, ‘এই সিন্ধান্তে শিক্ষার্থীরা প্রথমে খুশি হলেও কিছুদিনের মধ্যে অব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অবহেলার অভিযোগ উত্থাপন করে আন্দোলন শুরু করেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে সমাধানের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে শিক্ষা ক্যাডারের কাউকে রাখা হয়নি। মূল স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) এড়িয়ে গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করায় সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

সাত কলেজ নিয়ে এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। কেউ স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কেউ বিপক্ষে। এছাড়া একটি মহল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লোভ দেখিয়ে নিজেদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বলেও শোনা যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি স ম গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন ও অধ্যাপক এমএ সামাদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মাহবুবুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্তি প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মাহফুজ আহমেদ প্রমুখ।

সম্প্রতি

আরও খবর