সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশকেশবপুরে দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন বাগান দেখতে শতশত মানুষের ভিড়

কেশবপুরে দৃষ্টিনন্দন ড্রাগন বাগান দেখতে শতশত মানুষের ভিড়

প্রতিনিধি, কেশবপুর (যশোর)

সম্পর্কিত সংবাদ

রাতের আলোয় ড্রাগনের হরেক রঙের ফুল-ফলে ভরে থাকার দৃশ্য দেখার জন্যে প্রতিদিন শতশত মানুষ ড্রাগন খেতে ভিড় জমাচ্ছে। পথচারী ও মটরসাইকেল আরোহীরা সামান্য প্রশান্তি পেতে কিছু সময়ের জন্য হলেও ড্রাগন খেতটি দেখে অভিভূত হচ্ছেন। কেউ মিস করলে মনে হয় যেন, মনের ভেতর কোনো এক অপূর্ণতা রেখেই বাড়ি ফিরেছেন। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হয়না। অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর সাহস থাকলে যে কোনো কাজে জয়ী হওয়া যায়। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নান্টু সাহার ড্রাগন খেত। তিনি সম্পূর্ণ নিজের পরিকল্পনায় লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রাগন বাগানটি অপূর্ব সাজে সাজিয়েছেন। লাইটিং প্রযুক্তিতে ড্রাগন চাষ করলে তুলনামূলকভাবে বেশি ফলন পাওয়া যায়। তারই উদ্ভাবক হয়ে নান্টু সাহা এলাকায় সাড়া ফেলেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের নান্টু সাহা ফেসবুক ও ইউটিউবে ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েন। তিন বছর আগে তিনি নিজস্ব ৮ বিঘা জমিতে ২৫ হাজার রেটভেল বেট জাতের ড্রাগন গাছ রোপণ করে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচর্যা শুরু করেন। সরেজমিনে তার ড্রগন খেত পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, সমস্ত জমিতে তিনি ৫ ফুট উচ্চতার ১৬’শ টি কংক্রিটের খুটি বসিয়েছেন। যার প্রতিটির দূরত্ব দৈর্ঘ্যে সাড়ে ৭ ফুট ও প্রস্তে সাড়ে ৬ ফুট। খুটির মাথায় বসানো হয়েছে টায়ার। প্রতিটি খুটি পেঁচিয়ে টায়ারের ভেতর দিয়ে বাগানাকৃতিতে ঝুলে আছে সুস্থ-সবল ৪টি করে ড্রাগন গাছ। চারিদিকে যেন সবুজ আর রঙ বেরঙের ফুল-ফলের সমারোহ। শীতকালে ড্রাগনের ফলন তুলনামূলকভাবে একটু কম হয়। একথা বিবেচনা করে, তিনি শীতকালে ড্রাগন গাছে দ্রুত আগাম ফুল আনতে বাগানে নতুন করে আলাদা অন্তত: ২৫০টি বাঁশের খুটি পুতে, তার টাঙিয়ে প্রতি বিঘায় ৩০০ টি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ২৪’শ বাল্ব স্থাপন করেছেন। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি সরাসরি চীন থেকে এ বাল্ব আমদানি করেছেন।

তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে ড্রাগন গাছে ফুল আসা শুরু হয়। ৪০ দিন পর থেকে ফল কাটা শুরু হয়। ড্রাগন খেত আগাছা মুক্ত রাখতে তিনি পুরো খেতে মালছিং পেপার দিয়ে ড্রাগন গাছের গোড়া ঢেকে দিয়েছেন। সম্পূর্ণ ন্যাচারালভাবে ড্রাগন উৎপাদন হচ্ছে। ক্ষতিকর পাখির আক্রমন থেকে ড্রাগন ফল রক্ষায় সমস্ত খেত নেট/জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ড্রাগন খেত পরিচর্যায় ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক সার্বক্ষণিক নিযুক্ত করা হয়েছে। পানির সংকট মোকাবিলায় খেতে চাষের স্বার্থে ডিপ অ্যাবিগেশন পানির লাইন ও সেচ মটর স্থাপন করা হয়েছে। অনেকেই খেতটিকে রাতের রাণী বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু অসাধু ড্রাগন চাষী ড্রাগন ফলে টনিক ব্যবহারের কারণে প্রকৃত চাষীরা সঠিক বাজার মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারমত আলতাপোল গ্রামের মেহেদী হাসান রাজু, সাতবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম ও মিন্টু বড় ড্রাগন চাষী। তিনি আগামীতে আরও ২০/২৫ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করবেন। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি ড্রাগন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্ল্যাহ আর মামুন বলেন, এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের চাষ হয়েছে। মাঝারী উঁচু দো-আঁশ মাটিতে ড্রাগনের ফলন ভালো হয়। প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ মন ফলন পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি ড্রাগন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু চাষী ড্রাগনে টনিক ব্যবহার করায় বাজার নষ্ট হচ্ছে। এ উপজেলায় মোটি ১২ জন ড্রাগন চাষী রয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা ও ছাদে কিছু ড্রাগন চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি

আরও খবর