পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার টেলিফোন একচেঞ্জ ভবনটি এখন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিনত হয়েছে। পুরো ভবনটির চারপাশ ঝোড়ঝাড়ে ঢেকে রেখেছে। কিন্তু একসময় এই ভবন থেকেই ভেসে আসা অবিরাম টেলিফোনের রিংটোন হ্যালো, হ্যালো শব্দে মুখর থাকতো চারপাশ। অপরদিকে বর্তমান প্রজন্মের অনেকে ভিডিওতে টেলিফোন সেট দেখলেও বাস্তবে দেখা হয়নি অনেকের।
কথা হয় গলাচিপা পৌর এলাকার একসময়ের টেলিফোনের কল সেন্টারের মালিক হরি ঘরামীর সাথে। তিনি বলেন, উপকূলীয় গলাচিপার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল এই টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। পরে টেলিফোন ছাড়া যখন দ্রুত যোগাযোগের আর কোন মাধ্যম ছিলো না, তখন আমিসহ গলাচিপায় বেশ কয়েকটি টেলিফোন কল সেন্টার চালু হয়। তখন একচেঞ্জ ছাড়াও আমাদের কাছে ভীড় লেগেই থাকতো। কিন্তু আজ-চারদিকে সুনসান নীরবতা। ধুলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে সোনালী অতীত। তিনি আরো বলেন, আশির দশকে স্থাপিত টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ছিল উপজেলার প্রাণকেন্দ্র। চিঠি বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের বাইরে জরুরি খবর পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই ল্যান্ডফোন। যুগের চাহিদা মেটাতে এটিকে ডিজিটালেও রূপান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। মুঠোফোনের প্রভাবে ধীরে ধীরে কমতে থাকে এর চাহিদা, ঝরে পড়ে একের পর এক টেলিফোন গ্রাহক। জমজমাট অফিসটি এখন পরিণত হয়েছে ভূতুড়ে বাড়িতে। যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও নথি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মারুফ হাসান বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই টেলিফোন অফিসটি এভাবেই দেখি। আমি কখনো টেলিফোনে কথা বলিনি। তবে মোবাইল আছে, এটা দিয়ে আমি যোগাযোগ করি ইন্টারনেট চালাই। গলাচিপার চরখালী গ্রামের মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে ভবন ও টাওয়ার। বিটিসিএল-এর একজন লাইনম্যান একাই চেষ্টা করছেন হাতেগোনা কয়েকটি সংযোগ সচল রাখার। উপজেলায় কয়েকটি সরকারি অফিসে সংযোগ থাকলেও, তা প্রায়ই বিকল থাকে। সেই বিকল সংযোগগুলো সচল করতে যেন একাই লড়ছেন আবু শফিকুল ইসলাম। স্থানীয়র বাসিন্দা সুজন হাওলাদার জানান, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হিসেবে এর উপযোগিতা ফুরিয়ে গেলেও, ভবন এবং অবকাঠামোকে অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে লাগানো সম্ভব। এটিকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করে এর ঐতিহ্য রক্ষা করা যেতে পারে। প্রয়োজন শুধু সরকারের সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা। বিটিসিএল এর লাইনম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একাই এখন এ উপজেলা দেখভাল করছি। বেশি সমস্যা হলে পটুয়াখালী থেকে স্যারেরা আসেন। গলাচিপায় এখন মাত্র ৩০-৩৫টি লাইন সচল আছে।



