সোনালী রঙের পাকা ধান দীগন্ত জুড়ে। কেউ ধান কাটছে, কেউ ধানের আটি বেধে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। এ যেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা হেমন্তে শীতের আগমনী বার্তা। এ আনন্দ শুধুমাত্র উঁচু জমির কৃষকদের মাঝে। অপরদিকে, নিন্মাঞ্চলের বিলের কৃষকদের মধ্যে চলছে ফসল হারানোর বেদনা। আগাম বৃষ্টিপাতের প্রভাবে বিলে এবার আমন আবাদ হয়নি। ধানও উঠছে না কৃষকের ঘরে। নেই ঘরে ধান ওঠার আনন্দ। জলাবদ্ধতায় এবার আমন আবাদ হয়নি। ফলে লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। এদিকে, ধান ওঠার সাথে সাথেই পাইকাররা ধানের দাম কমিয়ে দেয়ায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। এঅবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে যশোরের কেশবপুরে আমন চাষীদের।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছর এ উপজেলায় আমান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৬ হাজার ৫৫০ মেট্রিকটন। যার বর্তমান বাজার মূল্য নির্ধরন করা হয় ১৩১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি আমন মওসুম শুরুর আগেই আগাম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। অপরিকল্পিত মাছের ঘের, নদীর নাব্যতা না থাকাসহ মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতায় উপজেলা ব্যাপী নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে কৃষকরা নিন্মাঞ্চলের বিলগুলোতে আমন আবাদ করতে ব্যর্থ হয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হয়ে মাত্র ৭ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়। জলাবদ্ধতার কারনে ২ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে এবার আমন আবাদ হয়নি। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৪৩ কোটি ২ লাখ টাকা।
মজিদপুর গ্রামের ধান পাট ব্যবসায়ী লুৎফর, শহর আলী জানান, মোকামে ধানের চাহিদা কম। তাই বর্তমান বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকায়। যা ১৫ দিন আগে সাড়ে ১২’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কিছুদিন এভাবে চলবে ধানের বাজার।
লহ্মীনাথকাটি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, তিনি মাঠের উঁচু ১ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। ধান পেকে যাওয়ার কারণে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে ধান গাছ হেলে পড়ে। এতে ফলনের কোনো হেরফের হবেনা। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলনও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদী। বাউশলা গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান বলেন, তিনি আগাম জাদের ধান আবাদ করেছিলেন। ধান কেটে সেই জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দেউলী গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তিনি বিলের ২ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছিলেন, পানিতে বিল তলিয়ে যাওয়ায় ঘরে হেমন্তের আনন্দ নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, আগাম বৃষ্টি ও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতায় নিন্মাঞ্চলের বিলগুলোতে আমন আবাদ না হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। যে কারণে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হাজার ৯৫০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। তবে উঁচু জমির ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।



