মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশডিমলায় শাখা নদীগুলো নাব্যতা হরিয়ে মরা খাল

ডিমলায় শাখা নদীগুলো নাব্যতা হরিয়ে মরা খাল

ময়েন কবীর, ডিমলা (নীলফামারী)

সম্পর্কিত সংবাদ

দেশের উত্তর অঞ্চলের সর্ববৃহ তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। তিস্তা ব্যারেজে মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবী সহ নীলফামারী জেলার কৃষিশিল্পকে বাঁচিয়ে স্বাবলম্বী ও টেকসই, বেগবান করতে ডিমলা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট ছোট শাখা নদ-নদীগুলোর পুন:খননের জরুরী প্রয়োজনে হয়ে পড়েছে।

নদীর অধিকাংশ এলাকা ভূমিদস্যদের করাল গ্রাসের কারনে এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে । পাউবো সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা গণের চরম গাফিলতি ও অবহেলার কারণে এ অবস্থার দায়ী করছেন নদী বিশেষজ্ঞগণ । নব্যতা ফেরাতে জরুরী ভিত্তিতে পুন:খননের অতীব একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে । চলতি শুকনো মৌসুমেই সংস্কারের দাবি তুলেছেন এলাকার সচেতন মহল । মরতে বসা এ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শাখা নদীগুলো হলো- নাউতার, বুড়িতিস্তা, কুমলাই ও ধুম নদী। কালের প্রবাহে এক সময়ের খরস্রোতা ছোট নদীগুলো প্রভাবশালী ভূমি দখল কারদের অবৈধ দখলের কারনে মানচিত্রে দৃশ্যমান থাকলেও বাস্তবে সেগুলো ক্রমান্বয়ে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। দিন দিন নদীর গতিপথ বদলে যাচ্ছে বালু ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারনে। এ ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্যে হারিয়ে এর প্রভাবে নদীগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। সর্বোপরি এর ফলে ব্যহত হচ্ছে নদী মাত্রিক জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ধারার গতিপথ।

নদী বিশেষজ্ঞরা মতে, নদীগুলোকে পুনর্জীবিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে নদী পূন:খনন করে এগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহ যথাযথ কার্যকরী ভূমিকা রাখার জন্য আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণকে। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর শুকনা মৌসুমে পুনঃখননের মাধ্যমে শাখা নদীগুলোর গতিপথ সচল রাখতে হবে এবং তদারকির জন্য জনবল কাঠামো তৈরি করে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধুম ও নাউতারা নদী খনন করে বালু-মাটি নিরাপথ দূরত্বে রাখার নিয়ম থাকলেও যে টুকু খনন করা হয় সব মাটি- বালু স্তূপ করে নদীর দু ধারেই রেখে দেয়ার কারনে সেগুলো বৃষ্টির পানির তোড়ে পুনরায় নদীগর্ভে গিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে খননের কাজ শেষ না হতেই নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়েছে । ভেস্তগেছে নদী খননের মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নাব্যতা ফিরে পাওয়ার পরিবর্তে চড়ে রূপান্তরিত হয়ে অকার্যকর হয়েছে। সেই সুযোগে প্রভাবশালীরা যে যেভাবে পারে পশী শক্তি বলে নিজের আয়ত্তে নিয়ে অবৈধ দখল প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নাউতারা ও ধুম নদী দুটো সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বালু ও পলি মাটি দ্বারা ভরাট হয়ে গেছে নদী দুটো। নদীর তীরবর্তী প্রভাবশালী বাসিন্দারা দখল নিয়ে চাষাবাদ করছেন। আবার দলীয় পরিচয় ধারী প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও নদী থেকে নিজ খেয়াল খুশি মত অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন বিনা বাধায়। ধুম নদীতেও একই অবস্থা অভ্যন্তরেও বাঁধ দিয়ে আবাদি জমি তৈরি করে ধান চাষ করা হয়েছে। আবার নদীর পাড় কেটে ট্রাক্টরে ভরে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী বালু ব?্যবসায়ীরা। নদীর একপাশে বাধ দিলে অন্যপাশে বালুর স্তর জমে চর জেগে ওঠে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি স্বার্থপর বালু ব্যবসায়ী মহল জমজমাট মাটি -বালুর ব্যবসা করছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, নদীর স্বাভাবিক গতিধারা বাধাগ্রস্ত করা দ-নীয় অপরাধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। নদী রক্ষায় ‘রিভারাইন পিপল’ এর পরিচালক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদের মতে, পাউবোর নদী খননের কার্যক্রম অপরিকল্পিত যা একেবারেই বিজ্ঞানসম্মত নয়।

অপরিকল্পিত খননের বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি বলেন, মাটির ধরনের কারণে এ অঞ্চলের নদী খননের পর সমস্যা হচ্ছে। নদীগুলোতে বালুর পরিমাণ বেশি। তাই খননের পরপরই আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এখন নদী গুলোতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখাও কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদী দখলকে ফৌজদারি কার্যবিধি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে দখলদার ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে ইতিমধ্যে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পাউবো, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি দল এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। ওই দল ইতোমধ্যে কুমলাই নদীর সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদার ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করেছে।

এছাড়া বুড়ি তিস্তা পুন:খননে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড মেঘা প্রকল্প হাতে নিলে বিগত ২০২২ ইং সালের ১৭ ডিসেম্বর স্থানীয় লোকজনের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় একাধিক মামলা এর ফলে খনন কাজ অনিশ্চয়তা হয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, এ উপজেলার নদীগুলোর নাব্যতা ফেরাতে ও পুনর্জীবিত করতে নদীর প্রস্থ পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ পূর্বক পরিকল্পিতভাবে পুন:খনন খুবই জরুরী প্রয়োজন। এ জন্য যতদ্রুত সম্ভব কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট রিলেটেড দপ্তরের গুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।

সম্প্রতি

আরও খবর