২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শেষমুহুর্তে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা যাছাই ও মেধাবিকাশের অজুহাতে হঠাৎ করে বৃত্তি পরীক্ষার নামে রমরমা বাণিজ্য শুরু হয়েছে।
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কতিপয় লোকজন মুলত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে বৃত্তির নামে এই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নেমেছেন বলে অভিভাবক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সরকারি অনুমোদন এবং শিক্ষা অধিদফতরের বৈধ নীতিমালা ছাড়াই ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি’ নামে একটি বাণিজ্যিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু করার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনমনে নানা কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির সংশ্লিষ্টরা ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করার ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
অভিযোগ উঠেছে, আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তিসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোভনীয় পুরস্কারের প্রলোভনের ফেলে ইতোমধ্যে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফরম বিক্রির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এসব প্রতিষ্ঠান উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদক, রৌপ্যপদক, পাঁচশ টাকার প্রাইজবন্ড, দামি শিক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে অভিভাবকদের আকৃষ্ট করছে। এসব বৃত্তি পরীক্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহনের জন্য অভিভাবকদের আগ্রহী করে তুলতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উপঢৌকন ও উপহার সামগ্রী। রঙিন বিজ্ঞাপন এবং ‘মেধা বিকাশ’ নামের আকর্ষণীয় শ্লোগান ব্যবহার করে সংগঠনগুলো বৃত্তি ব্যবসা গড়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করছেন, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্যাডেট ভর্তি সহায়তা, বিশেষ ক্রেস্ট, নগদ অর্থ সহায়তা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্টসহ আকর্ষণীয় অফার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃত্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আলোচিত প্রতিষ্ঠান চকরিয়ার ‘আলোকিত শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি’ পরীক্ষার মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে বৃত্তি পরীক্ষা শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলায় বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
তবে নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা না করায় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানাবিধ প্রতারণার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তির্যক লেখালেখি করেছেন ক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা। এমন পরিস্থিতিতে গত ৭ নভেম্বর পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতে বাধ্য হন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু কবে নাগাদ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হবে তা নিয়ে এখন নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে অভিভাবক মহলে।
আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি পরীক্ষার ৭ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা দেওয়া চকরিয়া আলোকিত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. জাফর আমিন বলেন, বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষার জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় না। অন্যরা যেভাবে বৃত্তি পরীক্ষা চালাচ্ছে, আমরাও তেমনিভাবে করছি।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সময়ে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে শুনেছি। তবে আমার জানা মতে, জেলা প্রশাসন কিংবা শিক্ষা অধিদফতর থেকে কেউ এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে অনুমতি নেয়নি।
এবিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনুমোদনহীন বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষা চালু আছে। সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে এধরণের বাণিজ্য কাউকে করতে দেওয়া হবে না।



