রবিবার, জানুয়ারি ১১, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশচুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপ

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ার প্রকোপ

প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা

সম্পর্কিত সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় হঠাৎ করে আবহাওয়া বদলে যাওয়ায় বাড়ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ। দিনের তাপমাত্রা বেশি আর রাতে হঠাৎ ঠান্ডা, এই অস্থিরতার মধ্যেই শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। সদর হাসপাতালের শিশুবিভাগ থেকে শুরু করে ডায়রিয়া ওয়ার্ড, সব জায়গাতেই রোগীর চাপ দিনে দিনে বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর রাত পর্যন্ত শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মোট ৫৪৮ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডেই ৩৬৩ জন, যাদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অন্যদিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ১৮৫ জন নারী, শিশু এবং বয়স্ক রোগী।

চিকিৎসকদের দাবি, রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া বহুগুণ বেড়ে গেছে, আর ঠান্ডাজনিত জটিলতায় ছোট শিশুদের নিউমোনিয়া দ্রুত মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগেও শত শত মানুষ ভিড় করছেন সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে।

গত ১৬ দিনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে শিশু ওয়ার্ড। আলমডাঙ্গার আইলহাস গ্রামের শাহানাজ নামের দুই দিনের একটি নবজাতক ভর্তি হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩ নভেম্বর রাতে মারা যায়। একই উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের নবজাতক সালমা ৯ নভেম্বর ভর্তি হয়ে পরদিন দুপুরেই মৃত্যুবরণ করে।

সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুল হক মালিক খোকন বলেন, এখন দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডা,এই বৈরী পরিস্থিতির কারণে অনেক শিশু দ্রুত ঠান্ডাজনিত জটিলতায় পড়ছে। মায়েদের সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি। রোটা ভাইরাসও ডায়রিয়ার সংক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০/৫০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। আর আউটডোরে দুইজন বিশেষজ্ঞ মিলে প্রতিদিন প্রায় ৩০০/৪০০ রোগী দেখছি।

তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের শ্বাসযন্ত্র খুব দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। তাই শিশুদের উষ্ণ কাপড় পরানো, নিয়মিত মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং সামান্য সমস্যা দেখা দিলেই দেরি না করে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

অভিভাবকদের অনেকে জানান, সন্তানদের হঠাৎ সর্দি, জ্বর থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। হানুরবাড়াদি গ্রামের মিরাজ ইসলাম বলেন, আমার ছেলে শ্বাসকষ্টে কষ্ট পাচ্ছিল। ডাক্তাররা বলছেন নিউমোনিয়া। সাতদিন ধরে ভর্তি আছে, এখন একটু ভালো।

মৌসুমি খাতুন জানান, তার চার বছরের সন্তান তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, চুয়াডাঙ্গায় এখন ঠান্ডার প্রকোপ বেশি। তাই শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা, কাশি ও বিভিন্ন সংক্রমণে সব বয়সের রোগীই আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে সবার সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি

আরও খবর