সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশপাঁচ নৌ-রুটে অকার্যকর ড্রেজিং: ব্যয় ৭০০ কোটি টাকা

পাঁচ নৌ-রুটে অকার্যকর ড্রেজিং: ব্যয় ৭০০ কোটি টাকা

প্রতিনিধি, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)

সম্পর্কিত সংবাদ

আরিচা-কাজিরহাট-বাঘাবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে নাব্যতা সংকট কাটাতে ভরা বর্ষা থেকেই ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও নৌ-চ্যানেলের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি; বরং নিয়মিতই বড় কার্গো ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। এলাকাবাসীসহ সচেতন মহলের অভিযোগ, ড্রেজিংয়ের নামে বছরের পর বছর সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাজ হচ্ছে অকার্যকরভাবে, ফলে এ রুটগুলো যেন সরকারি অর্থ অপচয়ের স্থানে পরিণত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিটের ১১টি ড্রেজার দিয়ে চ্যানেল খনন করা হলেও নদী থেকে কাটা বালু আবারও উজানে ফেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে স্রোতের টানে চ্যানেল দ্রুতই ভরাট হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সহজে কথা বলতে না চাইলেও স্থানীয়রা বলছেন, ড্রেজিং ইউনিট এখনও দুর্নীতিমূলক পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারেনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আহমেদ জানান, আরিচা-কাজিরহাট রুটে ২৫ আগস্ট (গত) এবং দৌলতদিয়া রুটে ২১ সেপ্টেম্বর (গত) থেকে ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এসব রুটে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭ লাখ ঘনমিটার বালু কাটার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এক কিলোমিটারের মধ্যে ড্রেজিং ম্যাটেরিয়াল ফেলা হচ্ছে, যা অনুমোদিত পদ্ধতি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চিফ ইঞ্জিনিয়ার রাকিবুল ইসলাম বলেন, যমুনার প্রস্থ ৭-৮ কিলোমিটার হওয়ায় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এক কিলোমিটারের বেশি দূরে পলি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়, তাই নদীর উঁচু স্থানে পলি ফেলা হচ্ছে।

গত বছর আরিচা-কাজিরহাট-বাঘাবাড়ী রুটে গত ২৮ জুলাই এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ২৪ অক্টোবর ড্রেজিং শুরু হয়েছিল। তখন ১৬-২০টি ড্রেজার দিয়ে ৪১ লাখ ঘনমিটার মাটি কাটার পরিকল্পনা ছিল এবং ব্যবহৃত ডিজেল ছিল ২০ লাখ লিটার, যার ডিপো মূল্য প্রায় ২০ কোটি ২৪ লাখ টাকা হলেও ব্যয় দেখানো হয় ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। তথ্যানুযায়ী, বিগত ৩০ বছরে এই নৌ-পথে ড্রেজিং খাতে সরকারি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬০৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা, রক্ষণাবেক্ষণসহ যা প্রায় ৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ড্রেজিং করা চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর নতুন করে দুই কিলোমিটার ভাটিতে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন পড়েছে, যা ড্রেজিংয়ের অকার্যকারিতা প্রকাশ করে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, চলতি বছরের ৮২ দিনে মাত্র ১২.৩৬ লাখ ঘনমিটার মাটি কাটা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশেরও কম। নদীর মাটি নদীতেই ফেলায় স্রোতের টানে আবারও চ্যানেল ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ড্রেজিং, একক দায়িত্বশীল সংস্থার অভাব, দুর্বল তদারকি এবং লুটপাটমুখী মনোভাবের কারণেই বছরের পর বছর ড্রেজিং কার্যক্রম কাক্সিক্ষত ফল দিচ্ছে না।

নৌ-পথ দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল হওয়ায় পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন থাকলে বাজার নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা মন্তব্য করতে না চেয়ে পিআরও-এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং সিইআইজিএস কর্তৃপক্ষ ফাইল না দেখে কিছু বলতে পারেননি।

সম্প্রতি

আরও খবর