চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ডিসেম্বরের শুরুতেই জেঁকে বসেছে শীত। হাওরাঞ্চল, বনাঞ্চল, পাহাড়, চা-বাগান ও শহরজুড়ে কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে।
টানা কয়েকদিন ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামার পর শনিবার ভোরে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও। একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড় ও তেতুলিয়ায়।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, শনিবার,(০৬ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৬টায় রেকর্ড হওয়া এই তাপমাত্রাই চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই চারপাশ ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া মানুষের বাইরে বের হওয়া কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষরা। দিন শুরুতে সূর্য দেখা মিললেও রোদের তাপ খুবই কম থাকায় ঠান্ডার প্রভাব থেকেও মুক্তি মিলছে না। আশিদ্রোন ইউনিয়নের দিনমজুর হাসমত মিয়া বলেন, এমন কুয়াশা আর ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কিন্তু কাজ না করলে চলবেই বা কীভাবে?
শহরের মুসলিমবাগ এলাকার রিকশাচালক আতাউর রহমান জানান,তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও রিকশা নিয়ে বের হয়েছি, কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী পাইনি।
আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ১৩ ডিগ্রিতে থাকলেও আজ তাপমাত্রা নেমে ১১ ডিগ্রিতে এসেছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন তাপমাত্রা ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলাসহ মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়, বনাঞ্চল ও চা বাগান বেষ্টিত সাতটি উপজেলায় এমন শীত সাধারণত জানুয়ারি মাসে দেখা যায়। কিন্তু এবার ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তাপমাত্রা এত নিচে নেমে যাওয়ায় স্থানীয়দের দিনযাপনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।



