শনিবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশবেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফির’ বললেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের এক ‘শিক্ষক’

বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফির’ বললেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের এক ‘শিক্ষক’

প্রতিনিধি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত সংবাদ

নারী জাগরণের অগ্রদুত বেগম রোকেয়াকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক। বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফির’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষকের নাম খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

মঙ্গলবার,( ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫) বেগম রোকেয়া দিবসে নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।’ পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরই সমালোচনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে ওই কথাগুলো লিখেছেন।

এসময় তিনি বলেন ‘ওই পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে বেগম রোকেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। সাজিদ হাসানের পোস্টের পুরো লেখাটা পড়লে বেগম রোকেয়ার সেই পরিচয় এসে যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া পুরো উপমহাদেশেই নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে স্বীকৃত। তার কারণেই আমাদের নারীরা বর্তমানে পড়াশোনা, রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। তাকে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা মানে গোটা নারী সমাজকেই হেয় করা। তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মাসুদ কিবরিয়া বলেন, ‘ইসলাম চর্চার মাধ্যমে একদল মানুষ নারীদের গৃহবন্দী করে রাখতে চেয়েছিল, যেটা ইসলাম মোটেও সমর্থন করে না। উপমহাদেশে নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার মাধ্যম গৃহবন্দী থেকে বেগম রোকেয়া মুক্তি দিয়েছেন। তাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য খুবই নিন্দনীয়।’তবে রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা এর প্রতিবাদ করেননি। তার মতে এ ধরনের মন্তব্য ‘প্রকাশ্যে না করাই উত্তম’। জোহা বলেন, ‘সবারই নিজস্ব দর্শন থাকে, আর তার মাপকাঠিও আলাদা। তবে এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে না বলাই উত্তম বলে মনে করি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর রোকেয়া পদক দেয় বাংলাদেশ সরকার।

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে নারীর সমান অধিকারের জন্য আমৃত্যু লড়াই করেছেন বেগম রোকেয়া। বাল্যবিয়ে, যৌতুক, পণ প্রথা, ধর্মের অপব্যাখ্যাসহ নারীর প্রতি অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি কালজয়ী গ্রন্থে ধর্মীয় গোঁড়ামি, সমাজের কুসংস্কার ও নারীর বন্দিদশার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন তিনি।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ১৯৩২ সালের একই তারিখে কলকাতার সোদপুরে তার মৃত্যু হয়।

সম্প্রতি

আরও খবর