বান্দরবানের থানচি উপজেলায় প্রশাসনের নাকের ডগায় পরিবেশ বিধি লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। পার্বত্যাঞ্চলে ইটভাটা পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থানচি সদরের হেডম্যান পাড়া স্কুলে পাশেই চলছে এবিএম ইটভাটার কার্যক্রম। আর ইটভাটার কাঁচামাল হিসেবে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ, বনজ কাঠ ব্যবহার এবং অপরিকল্পিতভাবে ইট পোড়ানোর কারণে মারাত্মক পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে এই পাহাড়ি জনপদ। থানচি উপজেলা সদর উপজেলার ডিম পাহাড় সড়কের পাশে হেডম্যান পাড়া স্কুলের সংলগ্ন এলাকায় কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে সাবেক আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা আনিছুর রহমান সুজন এর অবৈধ ইটভাটা নাম এবিএম।এই ইটভাটায় প্রতিদিন জ্বালানী হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে সরকারি বনের কাঠ আর সরকারি পাহাড় কেটে মাটি দিয়ে বানানো হচ্ছে ইট। এর ফলে উজার হচ্ছে বনভূমি, ধংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কম দিতে এ ইটভাটায় কাজে লাগাচ্ছে শিশু ও মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থী রোহিঙ্গা নাগরিকদের। এদিকে ইট তৈরীতে পাহাড়ের মাটি ও বনের কাঠ ব্যবহার করায় একদিকে যেমন ধংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ অন্যদিকে ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ তেমনি অতিরিক্ত ইট বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারনে নষ্ট হচ্ছে যাতায়তের সরকারী রাস্তা। ফলে ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীন সময়েও ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ঘন ধোঁয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ক্লাসরুমে ঠিকমতো আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। তাই স্কুলের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানান স্কুল শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা সারাক্ষণ ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বন জঙ্গল উজাড়ের পাশাপাশি ইটভাটার আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, এসব ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা সাময়িক; কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় কার্যক্রম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি নিয়েই। পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় ইটভাটা পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর শিল্পগুলোর একটি। এতে পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও বায়ুদূষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। তারা দ্রুত অবৈধ ইটভাটা বন্ধসহ পরিবেশবান্ধব বিকল্প নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
অরপদিকে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রীতি থানচিতে ইটভাটা চালুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুবই শীঘ্রই থানচিতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।
থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এর সাথে বিস্তারিত জানতে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি কল ধরেনি।
তবে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, বান্দরবানে অবৈধ কোন ইটভাটা পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। থানচিতে ইটভাটা হচ্ছে সেটা আমার জানা নেই। আমি থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে দ্রুত ইটভাটা অভিযান পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। তিনি বলেন, এটা পরিবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট, আপনারা পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবহিত করেন।



