সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
হোমখবরসারাদেশজেগে উঠা সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ

জেগে উঠা সরকারি জায়গা দখলে নিয়ে প্লট বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধি, চকরিয়া (কক্সবাজার)

সম্পর্কিত সংবাদ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সরকারি খালের তীরের জায়গা দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উজানটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নামের একব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্লট বাণিজ্যে জড়িত সাইফুল ইসলাম উজানটিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি। এ সুবাদে তিনি অনেকটা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওই জায়গা দখল করেছেন।

জানা গেছে, উজানটিয়ার কাটাফাঁড়ি খালের তীরে জেগে ওঠা প্রায় এক একরেরও বেশি জমি আরসিসি পিলার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে ২০ শতক করে ৬টি প্লট বানানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্লটে স্কেভেটর দিয়ে ব্যাপক মাটি কাটার কাজ চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্লটগুলো উচ্চমূল্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, যেখানে কেবল একটি প্লটই ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে নুরতাজ বেগম নামের এক নারীর কাছে। নুরতাজ বেগম সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সিরাদিয়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় এলাকাবাসীর বক্তব্য, সাইফুল ইসলাম এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। কৃষকদলের সভাপতির পদ ব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যে সরকারি জমি দখল, ভাগ এবং বিক্রির বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। দখলকৃত খালের জায়গায় মাটি ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

খাল দখলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এবিষয়ে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, খাল লাগোয়া আতঁরআলী পাড়ার বেড়িবাঁধের ভেতরের এ জায়গা আমাদের বাপ-দাদার বসতভিটা। মাথাখিলা হিসেবে ছয় ভাইয়ের ছয়টি প্লট ভাগ করা হয়েছে। আমার এক চাচা তার ভাগের ২০ শতক জায়গা বিক্রি করেছে। সেখানেই মাটি কাটা হচ্ছে এবং ঘর নির্মাণ করা হবে। এই জায়গাটি আমাদের অনেক বছর পুরানো জায়গা। সরকারি খাল দখলের কোনো প্রশ্নই আসে না।

তবে সাইফুল ইসলাম স্বীকার করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তর থেকে তারা কেনো অনুমতি নেননি।

এ বিষয়ে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড (কক্সবাজার পওর বিভাগ-২) পেকুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জমির উদ্দিন বলেন, সরেজমিনে গিয়ে ওই জায়গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিনা তা দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি বান্দরবান পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ( ইউপি সদস্য) ওসমান গনি জানান, জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গা সাইফুল ইসলামের পরিবারের ভোগ দখলে রয়েছে। জায়গা ছয় ভাইয়ের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি নিজেই সেখানে গিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. নুরুল আখতার নিলয় বলেন, কয়েকদিন আগেও উজানটিয়া ইউনিয়নে গিয়ে এ ধরণের কয়েকটি বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছি। অনুরুপভাবে কাটাফাঁড়ি খালের জায়গা দখলের ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি

আরও খবর