বার্ষিক পরিক্ষা শেষে পিতার সাথে সাগরে মাছ ধরা দেখতে গিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিয়াম নামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও তার বাবা শামীমের সলিল সমাধি ঘটে। শিশু পুত্রের শখ ও আবদার পুরন করতে সিয়ামকে নিয়ে বাবা শামীম সাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগর যাত্রাই তাদের শেষ যাত্রা করুন পরিনত হলো।
জেলে পরিবারের শিশু শিক্ষার্থী সিয়ামের বার্ষিক পরিক্ষা শেষ। বাবার হাত ধরে সাগরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। পরীক্ষা শেষে স্কুলের বইখাতা রেখে বাবা শামীমের সাথে সাগরে মাছ ধরা দেখবে বায়নাও করে ছিল সিয়াম। বাবা ছেলের কথা ফেলতে পারেনি। ছেলের বাসনা পুরন করতে ছেলেকে নিযে সাগর অভিমুখে তারা যাত্রা শুরু করে শামীম। এরপর গত বুধবার রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার অদুরে সাগরে প্রচন্ড বাতাসের কারণে ট্রলারের নিচের অংশে ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে ট্রলারডুবির ঘটনায় বাবা শামীম ও তার শিশু পুত্র সিয়ামের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শামীম রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং ট্রলার মালিক মো. সিদ্দিক জোমাদ্দারের ছেলে। শিশু সিয়াম ছিল তাঁর নাতি।
সাগরে থাকা অন্য ট্রলার ও কোস্টগাডের সহায়তায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। ট্রুলারের ভেতর থেকেই উদ্ধার করা হয় শামীমের মরদেহ। একদিন পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল বঙ্গোপসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার ছেলে সিয়ামের মরদেহ। পরে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও বাবা-ছেলের মরদেহ রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা স্লুইস ঘাটে আনা হলে সেখানে হৃদয়বিদারক অবতারনার সৃস্টি হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে কোস্টগার্ড মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, রোববার চরগঙ্গা বাঁধঘাট বাজার এলাকা থেকে সিদ্দিক জোমাদ্দারের মালিকানাধীন একটি ট্রলারের মালিক ও শিশু সিয়ামসহ ছয়জন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। টানা দুই দিন মাছ ধরার পর বুধবার রাতে সাগরের পাইপ বয়া এলাকায় নোঙর করা ছিল।
ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে উদ্ধার হওয়া জেলে রাব্বি, শাওন ও রাশেদ জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ ঝড়ো বাতাসের কারণে ট্রলারের নিচের অংশে ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অন্য জেলেরা সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়লেও শামীম ও তার শিশু সন্তান ট্রলারের ভেতরেই আটকা পড়েন।
অন্য জেলেরা ট্রলারের ভাসমান অংশ ধরে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ট্রলার তাঁদের উদ্ধার করে। তবে বাবা ও শিশুপুত্রকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিরাজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়। চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাবা ও শিশু সন্তান ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নূরে জায়েদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বাবা ও ছেলের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।



