মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি ভরাটের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে আটক করে পৃথক তিনটি মামলায় মোট ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার বিকালে উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটস্থ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দন্ড প্রাপ্তদের মধ্যে লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ এলাকার কফিলদ্দিন কাওরার ছেলে মো. চুন্নু মিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলার মজিবুর রহমানের ছেলে মো. শাহিন রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার মো. আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ ভরাটকাজ চলছিল। সে সময় হাতেনাতে আটক করা হলে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৫(১) ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে আদালতের রায় অনুযায়ী দন্ড প্রাপ্তদের তাৎক্ষণিকভাবে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, শিমুলিয়া ঘাট ও রানীগাঁও চরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও ভরাটকাজ চলছিল। এতে স্থানীয়বাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ ভরাট ও বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো।
লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বাসিত সাত্তার জানান, পরিবেশ ধ্বংস ও নদী-চর দখলের মতো যেকোনো অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



